সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

গ্রাফিতি নিয়ে উত্তেজনা: জিইসি থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৮ মে ২০২৬ | ২:৫২ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামে ‘জুলাই গ্রাফিতি’ মুছে ফেলা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মুখোমুখি অবস্থানের পর এবার নগরের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক ও এর আশপাশে সব ধরনের সভা-সমাবেশ এবং মিছিল নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নগরের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়ক এবং এর আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ থাকবে। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশ-১৯৭৮-এর ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, কেউ এ নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে রোববার সন্ধ্যায় নগরের টাইগারপাস এলাকায় ‘জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন’ কর্মসূচি পালন করে এনসিপি। দলটির নেতাদের দাবি, টাইগারপাস এলাকায় সিটি করপোরেশনের প্রবেশ ফটকের সামনে অন্তত চারটি পিলারের গ্রাফিতির ওপর সাদা ও হলুদ রং করা হয়েছে এবং সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের নির্দেশেই এসব গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে।

মেয়র শাহাদাত হোসেন নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে এনসিপি এমন অভিযোগ তোলার পর টাইগারপাস এলাকায় পাল্টা অবস্থান নেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ সময় পুলিশ এসে দুই দলের মাঝামাঝি অবস্থান নেয় এবং একপর্যায়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়।

এদিকে গ্রাফিতি মুছে ফেলার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি জানিয়ে রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় চসিকের জনসংযোগ শাখা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে নগরের কোথাও জুলাইয়ের গ্রাফিতি অপসারণের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কোনো শিল্পকর্ম, শিক্ষামূলক বা সামাজিক সচেতনতামূলক গ্রাফিতি অপসারণে তাঁর পক্ষ থেকে আলাদা কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতির ক্ষেত্রে এমন নির্দেশনার প্রশ্নই আসে না। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়।

তবে চসিকের এই ব্যাখ্যার পরও রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা। পরে চসিকের আমবাগানমুখী প্রবেশপথের সামনে সড়কে রং দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান লেখেন তাঁরা।