সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ফটিকছড়িতে শিক্ষার্থীদের ইউএনও: ‘দ্রুতই বদলে যাচ্ছে ভূমিসেবা’

এস এম আক্কাছ | প্রকাশিতঃ ২০ মে ২০২৬ | ৭:২৬ অপরাহ্ন


জমির খতিয়ান তোলা, নামজারি সৃজন কিংবা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ সাধারণ মানুষের জন্য একসময় সময়সাপেক্ষ, জটিল ও ব্যয়বহুল ছিল। কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ইউনিয়ন, উপজেলা ভূমি বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছুটতে হতো। দীর্ঘসূত্রতা, তথ্যের অস্বচ্ছতা এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য মানুষের ভোগান্তিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিত। তবে ডিজিটাল অগ্রগতির ফলে সেই চিত্র এখন বদলেছে। বর্তমানে মুঠোফোনেই পাওয়া যাচ্ছে ভূমিসেবা। ফলে দুর্নীতি কমছে, বাড়ছে স্বচ্ছতা; নাগরিক জীবনে ফিরছে স্বস্তি।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মঙ্গলবার থেকে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সহায়তায় বুধবার (২০ মে) তৌহিদুল আনোয়ার হাইস্কুলে কুইজ ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষার্থীদের ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সেবার নানা বিষয়ে অবহিত করেন প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম।

‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত এ মেলার লক্ষ্য হচ্ছে নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর, ই-নামজারি ও অনলাইন আবেদনসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা বিষয়ে তথ্য ও সহায়তা প্রদান করা। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও আধুনিক ভূমিসেবা পৌঁছে দিতেই মূলত এ আয়োজন করা হয়েছে।

সভায় বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ইউএনওকে প্রশ্ন করেন, ‘ভূমিসেবা নিয়ে মূলত দুর্নীতি ও ভোগান্তির দিকগুলোই বারবার সামনে এসেছে। নাগরিক পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন ও সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও এ বিষয়গুলো আলোচনায় থাকে। এখানে দালাল চক্র ও ঘুষ-বাণিজ্য, জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, রেকর্ড জালিয়াতি ও বেদখল, ডিজিটাল সেবায় কারিগরি ত্রুটি এবং সচেতনতার অভাব রয়েছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?’

জবাবে ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘অটোমেশনের ফলে জনগণকে ভূমিসেবা পেতে এখন আর সরাসরি ভূমি অফিসে যেতে হয় না। ঘরে বসে বা অনলাইনেই এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এতে দুর্নীতি যেমন কমেছে, সেবা প্রাপ্তিও সহজতর হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। নয়তো মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো কঠিন।’

ইউএনওর মতে, সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর (ডিএলআরএস) গত কয়েক বছরে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে। ফলে অনলাইনে নামজারি আবেদন, ই-নামজারি নিষ্পত্তি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ, অভিযোগ দাখিল এবং তথ্য যাচাই—সবকিছুই এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করা যাচ্ছে। ডিজিটাল ভূমিসেবা চালুর ফলে শুধু সময় ও খরচই কমেনি, বরং সেবার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে। ফলে দুর্নীতির সুযোগ কমেছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ইউএনও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ভূমি-সংক্রান্ত সঠিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে হয়রানি ও প্রতারণা থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব।’ পরে তিনি নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন কর, অনলাইন সেবা গ্রহণ পদ্ধতি এবং ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন নাগরিক সেবা সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অভিভাবকদের অবহিত করেন। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিসেবা সম্পর্কে সচেতন হয়ে অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের নাজির মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘অটোমেশনের ফলে মানুষ ভূমির যে সেবা পাচ্ছে, তার ডাটাবেজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে মানচিত্রভিত্তিক জমির তথ্য দেখার সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সীমানা বিরোধ কমার পাশাপাশি মামলাও কমে আসবে।’

তৌহিদুল আনোয়ার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক কাওসার বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিএনপি নেতা মো. এয়াকুব শহীদ, মো. হাসান উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন বাচ্চু এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।