সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

রাঙ্গুনিয়ায় ভূমিসেবা সপ্তাহের সমাপনী, মিলেছে নানা সেবা

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২১ মে ২০২৬ | ৫:২৩ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা সপ্তাহ ও ভূমিসেবা মেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের অংশগ্রহণ, তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান এবং ভূমিসেবাকে আরও সহজ ও ডিজিটাল করার বার্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে এ সমাপনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি অফিসের কানুনগো চন্দ্র লাল চাকমা, রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক নূরুল আবছার চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, ভূমিসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা ও হয়রানি কমিয়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ জানান, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলা এ মেলায় সাধারণ মানুষকে ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে মেলায় সেবা পাওয়া কয়েকজনের কথায়ও উঠে এসেছে ইতিবাচক চিত্র।

খাজনা দাখিল-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে সেবা নিতে আসা উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শ্যামল ঘোষ জানান, অনলাইনে খাজনা দাখিলের জন্য নিবন্ধনের চেষ্টা করলেও গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন কারণে তা বাতিল হয়ে আসছিল। পরে ভূমিসেবা মেলায় এসে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি সমস্যার সমাধান পান। তাঁর তিনটি খতিয়ানের অনুমোদন মিলেছে। এর মধ্যে একটি খতিয়ানের খাজনা ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছেন। অপর দুটি খতিয়ানের খাজনার পরিমাণ বেশি হওয়ায় এখনো পরিশোধ করতে পারেননি, তবে কয়েক দিনের মধ্যে সেগুলোও পরিশোধ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া একটি খতিয়ানে অন্য মালিকদের অংশ থাকায় সেটির অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে উপজেলার পোমরা এলাকার বাসিন্দা বখতিয়ার জানান, বিএস খতিয়ানের প্রিন্টে দাগ নম্বর ভুল থাকায় তিনি মেলায় এসে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি সংশোধনের সেবা পেয়েছেন।

সেবাগ্রহীতাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত গ্রহণ করা হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে এবং ভূমি-সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ ও কার্যকর হবে।