সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

গাছ লাগিয়ে ভাগ্যবদল: চুনতিতে ৮০ উপকারভোগী পেলেন ৯০ লাখ টাকা

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২২ মে ২০২৬ | ৭:১৩ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ৮০ জন উপকারভোগীর মাঝে প্রায় ৯০ লাখ ৯০ হাজার টাকার লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুক্রবার (২২ মে) সকালে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ অফিস প্রাঙ্গণে এই লভ্যাংশ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মো. ইয়াছিন নেওয়াজ।

চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুনতি বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা নূর জাহান।

এছাড়া চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্বাস উদ্দিন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনজুর আলম এবং চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিট কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার দত্তসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বন বিভাগ জানায়, তিনটি ধাপে এই লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ১৫ হেক্টর বাগানের ১৫ জন উপকারভোগীর প্রত্যেকে ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা করে মোট ৩১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা পেয়েছেন।

২০০৬-০৭ অর্থবছরে ১৫ হেক্টর বাগানের ১৫ জনের প্রত্যেকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। এই খাতে মোট ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।

এছাড়া ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ২৫ হেক্টর বাগানের ৫০ জন উপকারভোগীর প্রত্যেকে ৬৩ হাজার টাকা করে মোট ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক পেয়েছেন। সব মিলিয়ে ৮০ জনের মাঝে মোট ৯০ লাখ ৯০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সামাজিক বনায়ন শুধু পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও বড় মাধ্যম। দীর্ঘদিনের শ্রম ও পরিচর্যার ফলেই আজকের এই সাফল্য।

লভ্যাংশের চেক হাতে পেয়ে উপকারভোগীরা সরকারের এমন উদ্যোগে ব্যাপক সন্তোষ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে বন সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে দারুণভাবে শক্তিশালী করছে। এই ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়ানো হলে এলাকার টেকসই উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।