
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের পশুর হাটগুলোতে কোরবানির পশু উঠতে শুরু করেছে। তবে বিক্রেতারা দাম বেশি চাওয়ায় এখনো বেচাকেনা তেমন একটা জমেনি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
গত বুধবার থেকে উপজেলার ২১টি স্থায়ী ও অস্থায়ী বাজারে কোরবানির পশু উঠতে শুরু করেছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর মিরসরাইয়ে ৫৩ হাজার ৮৩০টি পশুর চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ৬০ হাজার ৩০০ কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। গত তিন বছরে এখানে প্রায় ৮ হাজার পশুর চাহিদা বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বড় বাজার মিঠাছরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর পরিমাণ গরু উঠলেও বেচাকেনা তেমন হচ্ছে না। ক্রেতারা শুধু ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন। দুপুরের পর অল্পসংখ্যক গরু বিক্রি হলেও তার তুলনায় ছাগল বিক্রি হয়েছে বেশি।
বাজারে আসা দুর্গাপুর এলাকার ক্রেতা আব্দুল আজিজ জানান, কোরবানির এখনো বেশ কয়েকদিন বাকি আছে। মূলত হাটে দাম কেমন, তা দেখতেই তিনি এসেছেন। গরুর মালিকরা চড়া দাম হাঁকাচ্ছেন, আর সে কারণেই বেচাকেনা কম হচ্ছে বলে মনে করেন আব্দুল আজিজ।
বড়দারোগাহাট বাজারে গরু বিক্রি করতে আসা বগাচতর এলাকার খামারি মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, এবার কোরবানির জন্য তিনি আটটি গরু মোটাতাজা করেছেন। এর মধ্যে বাড়িতেই তিনটি বিক্রি হয়ে গেছে। বাকি পাঁচটি গরু নিয়ে তিনি বাজারে এসেছেন, তবে ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। ক্রেতারা গরুর যে দাম বলছেন, তাতে বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে জানান মোহাম্মদ শফিউল আলম।
এদিকে বাজারের তুলনায় এ বছর খামারগুলোতে কোরবানির পশু বেশি বিক্রি হচ্ছে। ঝামেলা এড়াতে অনেকে খামার থেকে পশু কিনে কোরবানির আগপর্যন্ত সেখানেই রেখে দিচ্ছেন।
ডোমখালী আরবিসি এগ্রো খামারের ম্যানেজার রাশেদ নুর জানান, ঈদের এখনো এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও তাদের খামারের প্রায় অর্ধেক গরু বিক্রি হয়ে গেছে। গত ২০ দিন আগে থেকেই তাদের বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ক্রেতারা এসে পছন্দ করে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন এবং কোরবানির আগের দিন পর্যন্ত খামারেই গরু রাখার সুযোগ পাচ্ছেন।
রাশেদ নুর আরও জানান, এবার তাদের খামারে কোরবানির জন্য ২০০টি গরু ও ২৫টি মহিষ প্রস্তুত রয়েছে। এসব গরুর দাম ৯০ হাজার থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত। লাইভওয়েটেও (জীবন্ত ওজন) তারা পশু বিক্রি করছেন। ৩০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের গরু প্রতি কেজি ৫০০ টাকা এবং এর চেয়ে বেশি ওজনের গরু প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মহিষ প্রতি কেজি লাইভওয়েট ৫০০ টাকা।
নিজামপুর বাজারের ইজারাদার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ৬ লাখ টাকা দিয়ে বাজারটি ইজারা নিয়েছেন। কোরবানিতে ঠিকমতো গরু বিক্রি না হলে তাকে লোকসান গুনতে হবে। শুক্রবার বাজারে কিছু গরু-ছাগল এলেও একদমই বেচাকেনা হয়নি, তাই তিনি মঙ্গলবারের হাটের অপেক্ষায় রয়েছেন।
মিরসরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাকিরুল ফরিদ জানান, খামারি ও প্রান্তিক কৃষকেরা হাটে পশু তুলতে শুরু করলেও বেচাকেনা এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। শনি ও রোববার থেকে হাটে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হবে বলে আশা করছেন ডা. জাকিরুল ফরিদ।
ডা. জাকিরুল ফরিদ আরও জানান, এবার খামারি ও প্রান্তিক কৃষক মিলে চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করেছেন। পাশাপাশি পশুর হাটগুলোতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মেডিকেল টিম নিয়মিত কাজ করছে।