
কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় তিন ইউনিয়নে পৃথক ঘটনায় পুকুরে ডুবে তিন দিনে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
একের পর এক এমন শিশুমৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৪ মে) দুপুর ২টার দিকে উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের জইজ্যার পাড়া এলাকায় মরিয়ম বিবি (২) নামে এক শিশু বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে মারা যায়।
নিহত মরিয়ম একই এলাকার নজরুল ইসলামের কন্যা।
পরিবারের সদস্যরা কিছু সময় শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরে পুকুর থেকে উদ্ধার করে। দ্রুত কুতুবদিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে শনিবার (২৩ মে) বড়ঘোপ ইউনিয়নের অমজাখালী এলাকায় নুরুল হোসাইনের সাত বছর বয়সী ছেলে আদর মিয়া পানিতে ডুবে মারা যায়।
অন্যদিকে, গত শুক্রবার (২২ মে) দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের বড়ইতলী গ্রামে সাদিয়া (৭) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত সাদিয়া একই এলাকার নেজাম উদ্দিনের মেয়ে।
এর আগে গত ১৭ মে মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার পৃথক দুই ইউনিয়নে পুকুরে ডুবে আরও দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।
কুতুবদিয়া হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়নাব বেগম জানান, অভিভাবকদের অসচেতনতা ও শিশুদের প্রতি পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবেই প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটছে।
পাশাপাশি পুকুরে নিরাপত্তাবেষ্টনী বা বাউন্ডারি না থাকাকেও শিশুমৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন এই চিকিৎসক।
পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক আবুল কাশেম জানান, পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে অনলাইন ও অফলাইনে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হলেও কার্যকর কোনো ফল মিলছে না।
মূলত পরিবারের অবহেলা ও অসচেতনতার কারণেই এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে বলে মনে করেন তিনি।