
দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। শেষ মুহূর্তে চলছে পশু বেচাকেনা। গরু কিনে ফেরার পথে কৌতূহলী মানুষ প্রশ্ন করছেন, ‘কাকা কত হইছে?’, ‘ভাই, গরু কত?’ কিংবা ‘এক না দেড়?’
হাসিমুখে সব ক্রেতা উত্তরও দিচ্ছেন। গতকাল থেকে মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন হাট থেকে কোরবানির জন্য পশু ক্রয় করে বাড়ি নেওয়ার সময় রাস্তাঘাটে এমন মধুর প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন প্রায় সব ক্রেতা।
জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় কোরবানিকে ঘিরে ৩২টি স্থায়ী-অস্থায়ী বাজার বসেছে। দু-একটি বাজার ছাড়া সব বাজারে ভালো বেচাকেনা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোরবানির বাজারের শুরুতে গরুর দাম বেশি থাকলেও মঙ্গলবার (২৬ মে) গরুর দাম কিছুটা কমে গেছে। সর্বোচ্চ বিক্রি হয়েছে বড়তাকিয়া বাজারে। এ বাজারে প্রায় ৩ হাজার গরু উঠেছে এবং বিক্রি হয়েছে প্রায় দেড় হাজার।
আবুতোরাব বাজার থেকে গরু নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন বৃদ্ধ ইসমাইল মিয়া। বাজার থেকে গরু ক্রয় করে বের হওয়া মাত্র একজন জিজ্ঞেস করে, ‘কাকা, গরু কত হইছে?’ হাসিমুখে ইসমাইল মিয়া উত্তর দিলেন, ‘১ লাখ ৫৫ হাজার।’
ইসমাইল মিয়া বলেন, ‘আমরা ৫টি পরিবার একসাথে কোরবানি করব। হাসিল ছাড়া ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে গরু ক্রয় করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবছর গরু কিনে নেওয়ার সময় দাম কত, এটা সবাই জিজ্ঞেস করে। এটা বলতে ও শুনতে ভালো লাগে।’
উপজেলার চৌধুরীহাট থেকে গরু ক্রয় করা সোনাপাহাড় এলাকার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বাজার থেকে গরু কিনে বাড়ি আসা পর্যন্ত অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন গরুর দাম জিজ্ঞেস করেছে৷ বলতে ভালো লাগে, আমি ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা দিয়ে গরু ক্রয় করেছি।’
মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘কোরবানির ঈদকে ঘিরে হাটে গিয়ে গরু দেখা, পছন্দ করা, দরদাম করা, কিনে নিয়ে বাড়ি ফেরা—সবই উৎসবের অংশ৷ বিশেষ করে গরু কিনে রশি ধরে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার মধ্যে অন্যরকম আনন্দ।’
বড়তাকিয়া বাজারের ইজারাদার শাহ মো. ফোরকান উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বাজার খুব ভালো জমেছে। আলহামদুলিল্লাহ, বেচাকেনা খুব ভালো হয়েছে। আমরাও হাসিল কম নিয়েছি।’