সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতকানিয়ায় মাদক বিরোধের জেরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৯ মে ২০২৬ | ২:৩৮ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় মাদক নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. সেলিম (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় নিহত মো. সেলিমের বাবা আবুল খাইর বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা দায়েরের পর মুহাম্মদ ইসমাইল ওরফে ইমন (২৮) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত মো. সেলিম চরতী খাটাখালী এলাকার বাসিন্দা এবং মো. সেলিম ছিলেন আবুল খাইরের ছেলে। আসামিদের সঙ্গে মো. সেলিমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে ঘটনার দিন একদল লোক লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মো. সেলিমের গতিরোধ করে।

তারা মো. সেলিমকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা মো. সেলিমকে টেনেহিঁচড়ে স্থানীয় এক বাড়ির ভেতরে নিয়ে গিয়ে বিবস্ত্র করে পুনরায় মারধর করে। এতে মো. সেলিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

পরে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মো. সেলিমকে উদ্ধার করে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাতে মো. সেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নিহত মো. সেলিমের বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ চরতী এলাকায়। তবে মো. সেলিম পার্শ্ববর্তী গ্রাম খতিরহাট এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং মো. সেলিম বেশিরভাগ সময় ওই এলাকায় থাকেন। এই ঘটনার আগেও মো. সেলিমের সঙ্গে ওই এলাকায় কয়েকজনের মারামারি হয়েছিল।

সবশেষ বৃহস্পতিবার ঈদের দিন মো. সেলিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্তরা চুরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে গণপিটুনিতে মো. সেলিম নিহত হয়েছেন বলে প্রচার করেন। তবে পরে মাদক নিয়ে বিরোধের তথ্য সামনে আসে।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মো. সেলিমের বাবা আবুল খাইর বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ৩০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী আরও জানান, এরই মধ্যে মুহাম্মদ ইসমাইল ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।