
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বিআরটিসি বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আঞ্চলিক মহাসড়কে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই বাবা মো. শাহজাহান (৫০) ও ছেলে মোহাম্মদ আরিফের (২০) প্রাণহানি ঘটে। তারা দুজনেই পার্শ্ববর্তী বৃন্দাবনহাট বাজারে একটি গ্যারেজে যাচ্ছিলেন। তাদের বাড়ি পাইন্দং গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মালেক শাহ বাড়িতে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ও বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে অভিযোগ এনে বিআরটিসি বাসে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই বাসটির বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। সড়কে বেপরোয়া যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ জানান স্থানীয়রা।
একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় ফটিকছড়িবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবের কারণেই প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সৌরভ বলেন, আর কত প্রাণ ঝরলে নিরাপদ হবে ফটিকছড়ির সড়ক? কবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে? তিনি মহাসড়কে কঠোর নজরদারি, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ঘটনার পরপরই ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান এবং নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
এ বিষয়ে নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বাসের চালককে আটক করা হয়েছে।