
চলতি জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়ের শুরু হচ্ছে। জুনের শুরু থেকেই বৃষ্টি ঝরানো মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করায় এ মাসে সাধারণত যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর জুন মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এর আগে গত এপ্রিল ও মে মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।
আবহাওয়া অফিস সোমবার জুন মাসের আবহাওয়ার এই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও একাধিক লঘুচাপের সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি লঘুচাপ পরবর্তীতে মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সাধারণত জুন মাসে দেশে গড়ে ৪৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে, যা বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টির মাস হিসেবে পরিচিত। দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় জুলাই মাসে, যার গড় পরিমাণ ৫২৩ মিলিমিটার।
চলতি মাসের শুরু থেকে মৌসুমি বায়ু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তার লাভ করতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে এ মাসে দেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। শুধু তা–ই নয়, জুন মাসে দেশে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে গত মে মাসের পরিস্থিতি তুলে করে জানানো হয়, মে মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে রংপুর বিভাগে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৯৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে অপেক্ষাকৃত কম বৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে এপ্রিল মাসে, যা দেশের সবচেয়ে গরমের মাস হিসেবে পরিচিত, স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়েছিল, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এপ্রিলের ওই অতিবৃষ্টির কারণে দেশের হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার উঠতি ফসল তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।