সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় যশোর জিলা স্কুলের জোড়া স্বর্ণজয়

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৭ জুন ২০২৬ | ১০:৪৯ অপরাহ্ন


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য আরও একটি গৌরবময় অর্জনের খবর এনে দিয়েছে যশোর। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দুটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করেছে যশোর জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী রাইয়ান সাদিক। তার টিমমেট হিসেবে ছিল একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস এম জাওয়াদ হোসেন।

প্রতিযোগিতা দুটি হলো ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন ইনোভেশন কম্পিটিশন (I3C)’ এবং ‘ইনোভেশন ওয়ার্ল্ড কাপ (IWC)’।

গত ৪ ও ৫ জুন বিশ্বের ১৭টি দেশের ৪৭০টি দলের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী এই উদ্ভাবনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সৃজনশীল উদ্ভাবনের নানা প্রকল্পের মধ্য থেকে বিচারকদের মূল্যায়নে সেরা ৩০টি দলকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়। সেই প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে যশোর জিলা স্কুলের ‘ফিউচার সায়েন্টিস্ট’ দল।

শনিবার সকালে জাকার্তার ইউনিভার্সিটি নেগরি মিলনায়তনে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস রেক্টর ফর কোঅপারেশন অ্যান্ড বিজনেস ড. অ্যান্ডি হাদিয়ান্তো বিজয়ীদের হাতে পদক ও সনদপত্র তুলে দেন।

এই অর্জনের মধ্য দিয়ে রাইয়ান সাদিক এবং এস এম জাওয়াদ হোসেন শুধু নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষরই রাখেনি, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকাকে আরও মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরেছে। তাদের এ সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা, অধ্যবসায় ও উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি থাকলে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

রাইয়ান সাদিক বিশিষ্ট শিক্ষক দম্পতি ড. কামরুজ্জামান ও জেসমিন আক্তারের ছোট সন্তান। সন্তানের এই অসাধারণ সাফল্যে পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তারা সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং এই অর্জনের পেছনে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, বিশেষ করে শিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

যশোর জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদীন জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অসংখ্য প্রতিযোগীর মধ্যে আমাদের শিক্ষার্থীরা দুটি বিভাগেই স্বর্ণপদক অর্জন করে দেশের জন্য বিরল সম্মান বয়ে এনেছে। এটি বিদ্যালয়ের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি সমগ্র দেশের জন্যও আনন্দের। ভবিষ্যতেও তারা আরও বড় বড় আন্তর্জাতিক অর্জনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির মুখ উজ্জ্বল করবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

রাইয়ানের বড় ভাই এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ৬৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিস সাদিক জানান, রাইয়ান ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আগ্রহী এবং তার এই সাফল্যে পুরো পরিবার দারুণ গর্বিত।