
কক্সবাজারের চকরিয়ায় বসতবাড়িতে ডাকাতি এবং মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার সকালে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য হোসনে আরা বেগম বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা রুজুর আগেই পুলিশ এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন- পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ডলুনিঘোনা এলাকার মৃত আলমগীর ফারুকের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন ওরফে বাবু ও তার ভাই কেফায়েত হোসেন ওরফে পুইত্যা, একই এলাকার মনি আলমের ছেলে মোহাম্মদ তানজিদ, কদ্দাছড়া এলাকার বশির আহমদের ছেলে মেহেদী হাসান এবং সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ তারেক।
গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ তারেক ডাকাতি ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছেন। বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ জানান, জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এই বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, সংঘবদ্ধ ডাকাতি ও ধর্ষণের এই ঘটনায় পুলিশের বিশেষ দল রুদ্ধদ্বার অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
মোহাম্মদ মনির হোসেন আরও জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে পেনাল কোড এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল জড়িত বাকিদের ধরতে কাজ করছে।