সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

মিরসরাইয়ে ছাত্রীর মৃত্যু: ধর্ষণ-হত্যা মামলার প্রতিবাদ তানভীরের পরিবারের

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১১ জুন ২০২৬ | ৯:০৪ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ‘সড়ক দুর্ঘটনায়’ এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধু তানভীর হোসেন ও আশরাফ উদ্দিনকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেছে নিহত ছাত্রীর পরিবার। তবে এই মৃত্যুকে নিছক সড়ক দুর্ঘটনা দাবি করে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরপরাধ বন্ধুকে হয়রানির অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী তানভীর হোসেনের পরিবার।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরসরাই প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তানভীর হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। তারা জানান, নিহত ছাত্রীর মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার তারাও চান, তবে বিচার যেন তথ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে হয় এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন।

জানা গেছে, গত ৭ জুন বিকেলে ওই কলেজছাত্রী তার বন্ধু তানভীর হোসেন, আশরাফ উদ্দিন ও রিসবী সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে করে ফেনী থেকে মিরসরাইয়ের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী অংশের মিরসরাই উত্তর ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছালে তানভীর হোসেন ও ওই ছাত্রীকে বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে ওই ছাত্রী গুরুতর এবং তানভীর হোসেন আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মিরসরাই সেবা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় হাসপাতালে তানভীর হোসেনের আচরণ ও বক্তব্য সন্দেহজনক মনে হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচলাইশ থানা পুলিশকে অবহিত করে। এরপর পুলিশ তানভীর হোসেন ও আশরাফ উদ্দিনকে হেফাজতে নেয় এবং নিহত ছাত্রীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এই ঘটনায় গত ৯ জুন মিরসরাই থানায় তানভীর হোসেন ও আশরাফ উদ্দিনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত ছাত্রীর বাবা। নিহত ওই ছাত্রী (২০) ফেনী টিচার্স অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের বিএড দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দা এবং একজন হোমিও চিকিৎসকের কন্যা। অন্যদিকে, প্রবাসী তানভীর হোসেন কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের উত্তর বৈতিয়ারা এলাকার মৌলভী বাড়ির মৃত এবাদত হোসেনের ছেলে। আশরাফ উদ্দিন হলেন তানভীর হোসেনের বন্ধু।

সংবাদ সম্মেলনে তানভীর হোসেনের বড় বোন নাবিলা আক্তার বলেন, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের ওপর আস্থা রেখে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান নাবিলা আক্তার।

তানভীর হোসেনের মা হাছিনা খাতুন দাবি করেন, তার ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ। তিনি বলেন, তার ছেলে তাকে জানিয়েছে যে, ওই মেয়েটির সঙ্গে কেবল পরিচয় হয়েছে এবং তারা একসঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিল। নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও ছেলের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা মামলা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না বলে জানান হাছিনা খাতুন।

তানভীর হোসেনের ছোট মামা মোহাম্মদ বিজয় বলেন, দুর্ঘটনাস্থলের ভিডিও দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায় এটি একটি সড়ক দুর্ঘটনা। অথচ তানভীর হোসেনকে ধর্ষণ মামলায় চালান দেওয়া হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রশাসনের মাধ্যমে সঠিক ঘটনা বেরিয়ে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মোহাম্মদ বিজয়।

অন্যদিকে, নিহত কলেজছাত্রীর বাবা দাবি করেন, এটি নিছক কোনো সড়ক দুর্ঘটনা নয়; পরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রীর বান্ধবী রিসবী সুলতানা তাদের এড়িয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া তানভীর হোসেনের কথাবার্তাও তার কাছে অসংলগ্ন মনে হয়েছে।

এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় তানভীর হোসেন ও আশরাফ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেন ওসি ফরিদা ইয়াসমিন।