সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চকরিয়ায় ডাকাতি ও মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় আরও দুই আসামি গ্রেপ্তার

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১১ জুন ২০২৬ | ১১:০২ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের চকরিয়ায় বসতবাড়িতে ডাকাতি শেষে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত আরও দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি মোহাম্মদ মাসুদের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ জানান, ডাকাতি ও মা-মেয়েকে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ডাকাতদের ধরতে সোর্স ব্যবহার করে তাদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে জড়িত দুই ডাকাত কায়ছার উদ্দিন ও রেজাউল করিমের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মোহাম্মদ মাসুদ আরও জানান, ঘটনার দিন রাতে চকরিয়া থানা পুলিশ ও মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত টিম রুদ্ধদ্বার অভিযান চালিয়ে ঘটনায় সরাসরি জড়িত ও মামলার এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিকে আগেই গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে দুই আসামি বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, বাড়িতে ডাকাতি ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ওই দুই ডাকাতকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত কায়ছার উদ্দিন ও রেজাউল করিমকে বিধি অনুযায়ী রুজুকৃত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুন (সোমবার) রাতে চকরিয়ার (নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার) পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ডলনীঘোনা এলাকায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি অস্ত্রধারী ডাকাতদল প্রবাসীর বাড়ির গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর বাড়ির লোকজনদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক স্কুলছাত্রীসহ দুই নারীকে মারধর এবং পাশবিক নির্যাতন করে। এ সময় ডাকাতদল আলমারি থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাস ও চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচ ডাকাতকে আটক করে। এ ঘটনায় পরদিন মঙ্গলবার (৯ জুন) চকরিয়া থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলা রুজু করেন আক্রান্ত পরিবারের সদস্য।