সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পেকুয়ার স্বপ্নপূরণ, চকরিয়ার ভরসা কি কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়?

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১২ জুন ২০২৬ | ১১:১৫ অপরাহ্ন


বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের মাথায় কক্সবাজারের প্রশাসনিক মানচিত্রে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে যাচ্ছে। সরকারের আলোচিত উদ্যোগ হিসেবে আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে পেকুয়া পৌরসভা ও মেহেরনামা ইউনিয়ন।

এর পাশাপাশি, দীর্ঘদিনের দাবি মেনে চকরিয়া উপজেলাকে ভেঙে সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে নতুন ‘মাতামুহুরী উপজেলা’। তবে একপাশে যখন প্রশাসনিক এই প্রাপ্তির উল্লাস, তখন চার লাখ মানুষের বৃহৎ জনপদ চকরিয়ার বাসিন্দারাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বড় কোনো সুখবরের।

জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় চকরিয়া-পেকুয়াবাসীর কাছে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সরকার গঠনের ১০০ দিনের মধ্যেই তার সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন স্থানীয়রা।

প্রশাসনিক এই পুনর্বিন্যাসের আওতায় চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের মধ্যে বদরখালী, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর (ভেওলা মানিকচর), পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা ও সাহারবিল—এই সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন মাতামুহুরী উপজেলা আত্মপ্রকাশ করেছে।

অন্যদিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের একটি অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছে পেকুয়া পৌরসভা এবং মেহেরনামা মৌজাকে কেন্দ্র করে নতুন ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগও চূড়ান্ত পর্যায়ে। শুধু তা-ই নয়, চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং এবং খুটাখালী নিয়ে নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়াও চলমান।

প্রশাসনিক এই পরিবর্তনের ফলে অবহেলিত উপকূলীয় মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছানো অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিষয়টি নিয়ে মাতামুহুরী উপজেলার বাসিন্দা ডা. হেলাল উদ্দিন জানান, উপজেলা প্রতিষ্ঠার ফলে এই অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সেবা আরও সহজলভ্য হবে। সাংবাদিক মনছুর আলম রানার মতে, নতুন মাতামুহুরী উপজেলা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সরকারের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত এবং এই অর্জন স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত গর্বের।

পেকুয়া ঋণদান সমিতির সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন বলেন, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেকুয়া আধুনিক নগরকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন কথায় নয়, কাজেই বিশ্বাসী, যার প্রমাণ এই পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা।

একই সুরে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সাহেদুল ইসলাম এবং পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আনসারী জানান, প্রশাসনিক এই পুনর্গঠনের মাধ্যমে অবহেলিত এলাকাগুলোর ব্যাপক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

চকরিয়ার আক্ষেপ এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন

নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা এবং পেকুয়া পৌরসভার বাসিন্দারা যখন আর্থসামাজিক উন্নয়নের স্বপ্ন বুনছেন, তখন বিপরীত চিত্র চকরিয়া সদরে। চকরিয়া উপজেলার একাধিক জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চার লাখ মানুষের অমিত সম্ভাবনার এই জনপদ যেন উন্নয়নের এই মহোৎসবে অনেকটাই উপেক্ষিত।

আগামী শনিবার (১৩ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চকরিয়া-পেকুয়া সফরে আসছেন। তবে চকরিয়াবাসীর আক্ষেপ, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তাদের জন্য বৃক্ষরোপণ ছাড়া দৃশ্যমান কোনো বড় উন্নয়ন বা কাঠামোগত কর্মসূচির ঘোষণা নেই।

তবে আশাহত হতে রাজি নন স্থানীয়রা। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি, চকরিয়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হোক। চকরিয়াবাসীর এখন একটাই প্রত্যাশা—জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চকরিয়ায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচাবেন।

আগামী ১৩ জুনের জনসভার দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো চকরিয়া। সেদিন কি চকরিয়াবাসীর বঞ্চনার অবসান ঘটবে, নাকি কেবল প্রতিশ্রুতির খাতা ভারী হবে—তার উত্তর মিলবে প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়েই।