সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেন করা হবে: চকরিয়ায় প্রধানমন্ত্রী

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৩ জুন ২০২৬ | ৯:৩০ অপরাহ্ন


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কক্সবাজারের মানুষ প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে। সরকার এই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। এ জন্য কক্সবাজারের উন্নয়নের লক্ষ্যে আলাদা মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছে। পর্যটন জেলার জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ৪ বা ৬ লেনে উন্নীত করা হবে।

শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজারে এক দিনের সফরে এসে দিনের অন্যান্য কর্মসূচি শেষে রাত ৮টায় চকরিয়া উপজেলা সদরের পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শনিবার রাত সাড়ে ৭টায় পৌর বাস টার্মিনাল মাঠের জনসভা মঞ্চে পৌঁছান সরকারপ্রধান। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রিয় নেতার বক্তব্য শুনতে হাজারো মানুষ বিকেল থেকে সভাস্থলে অপেক্ষা করছিলেন।

লবণ চাষিদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের লবণ চাষিদের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। কোনো লবণ চাষি যাতে ভবিষ্যতে জুলুমের শিকার না হন এবং ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য লবণের মূল্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জনসভায় তিনি আরও জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে সারা দেশে ৪০ লাখ কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি বরাদ্দে বিনামূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক ও নানা কৃষি উপকরণ পাবেন। ইতোমধ্যে সারা দেশে গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো সরকারি বরাদ্দে আড়াই হাজার টাকার বিপরীতে খাদ্য সহায়তা পাবে।

জনগণের জন্য সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করে সারা দেশে কৃষিখাতে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। এর ফলে কৃষকরা নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পেয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় প্রবর্তন করেছে, যাতে দেশবাসীর খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে তিনি বলেন, সারা দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যা বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে জনগণের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। আগামীতেও সরকার সারা দেশে হাসপাতালগুলোতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে শতভাগ সরকারি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবে।

নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকসহ দেশের সবার ভাগ্য বদলাতে সরকার কাজ করছে। অথচ বাজেটে বিড়ি-সিগারেটসহ কিছু পণ্যের দাম বাড়ানো নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা বিষোদ্গার করছেন। সমালোচনাকারী বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তারা সংসদ নির্বাচনের সময় বেহেশতের টিকিট বিক্রি করতে চেয়েছিল। জনগণ তাদের প্রতারণা বুঝে গেছে। সুতরাং সবাইকে তাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

এর আগে শনিবার সকাল ১০টায় আকাশপথে কক্সবাজারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। এরপর সরকারপ্রধান পিএমখালী ইউনিয়নে পাতলী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং সুধী সমাবেশে অংশ নেন।

দুপুরে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে পেকুয়া উপজেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন তিনি।

এরপর নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সরকারপ্রধান। চকরিয়ার জনসভা শেষে রাতে কক্সবাজারের লং বিচ হোটেলে সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী আকাশপথে ঢাকায় ফিরবেন।

দেড় দশকের বেশি সময় লন্ডনে থাকার পর গত ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম কক্সবাজার সফর।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না। উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ।

জনসভাটি সঞ্চালনা করেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী ও চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিম। এতে কক্সবাজার জেলা, চকরিয়া উপজেলা, চকরিয়া পৌরসভা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।