সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রামে বুধবার শুরু হচ্ছে ১০ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কারবালা মাহফিল

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৫ জুন ২০২৬ | ৭:৫৯ অপরাহ্ন


আহলে বায়তে রাসুল স্মরণে চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্লাজায় আগামী বুধবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ১০ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল। শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের আয়োজনে চার দশক ধরে চলে আসা এই মাহফিলের ৪১তম আসরের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের মাহফিলে বাগদাদ থেকে বড়পীর হজরত আবদুল কাদের জিলানি (রা.)-এর দরবারের সাজ্জাদানশীন ও বংশধর শাহসুফি সৈয়দ আফিফ উদ্দিন আল মনসুর আল জিলানি এবং ভারতের টিপু সুলতান জামে মসজিদের খতিব বিশ্ববরেণ্য আলেম শাহসুফি সাখাওয়াত হোসেন বরকতী অংশ নেবেন। এ ছাড়া সরকারের মন্ত্রী, মেয়র ও সংসদ সদস্যরা অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। প্রতিদিন পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কারি শায়খ আহমদ বিন ইউসুফ আল-আযহারী।

সংবাদ সম্মেলনে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের চেয়ারম্যান কাজী মঈনুদ্দিন আশরাফি বলেন, আহলে বায়তে রাসুল ইসলামের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে যে মর্যাদা পেয়েছেন, তা আলোচনা না হলে মুসলিম উম্মাহ অন্ধকারে চলে যাবে। সেই অন্ধকার থেকে বের করে আনতেই এই মাহফিলের আয়োজন।

আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের প্রধান সমন্বয়ক ও ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী হোসেন সোহাগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মাওলানা জাফর উল্লাহ। তিনি জানান, ১৯৮৬ সালে খতিবে বাঙাল মাওলানা মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল কাদেরী (র.) এই মাহফিলের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। হিজরি নববর্ষ, পবিত্র মহররম এবং আহলে বায়তে রাসুলের আদর্শ প্রচারের লক্ষ্যে আয়োজিত এই মাহফিল এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে পরিণত হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, কারবালার শিক্ষা কেবল শোকের নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, মানবতা ও সত্য প্রতিষ্ঠার শিক্ষা। বর্তমান বিশ্বে যখন সহিংসতা ও বিভেদ বাড়ছে, তখন কারবালার শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য বিভেদ নয়; বরং ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের জেনারেল সেক্রেটারি প্রফেসর কামাল উদ্দিন আহমেদ, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মুহাম্মদ আলাউদ্দিন, পর্ষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট খোরশেদুর রহমান, মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক, সিরাজুল মোস্তফা, প্রচার সম্পাদক দিলশাদ আহমদ, আবদুল হাই মাসুম, পেয়ার মোহাম্মদ কমিশনার, হাফেজ মুহাম্মদ ছালামত উল্লাহ্, মুহাম্মদ মাঈনুদ্দিন মিঠু, মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, আবুল মনসুর শিকদার, জাফর আহমদ সওদাগর, আবু সাঈদ মুহাম্মদ হামেদ, শফিক আহমেদ, মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন এবং মুহাম্মদ জহির উদ্দিন।