
রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে রাউজান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাতে নিহতের বড় ভাই ও রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) এএসপি মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, নিহতের ভাই মুহাম্মদ পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে ১১ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এর আগে দুজনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
গত শনিবার দুপুরে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁকে ধাওয়া করে গুলি চালায়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ানোর সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সড়কে পড়ে যান মাসুদুল হক চৌধুরী। এরপর হামলাকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রথম দফায় গুলি চালিয়ে চলে যাওয়ার পর আবার ফিরে এসে তাঁকে গুলি করা হয়। পরে হামলাকারীরা অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
নিহত মাসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবেও তিনি আলোচনায় ছিলেন। তাঁর এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।