
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার (নবগঠিত মাতামুহুরী) পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নে আট বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার সকালে পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফজুমিয়াজির চরের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শিশুটি ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া গ্রামের স্থানীয় এক বাসিন্দার ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়ত।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত রোববার দুপুরে মাদ্রাসা থেকে ফিরে খেলতে বের হওয়ার পর শিশুটি নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার সকালে ডোবায় একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে সকাল ৯টার দিকে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
লাশ উদ্ধারের সময় উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে বলাৎকারের পর পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এরপর লাশটি ময়লা পানিতে ফেলে দেওয়া হয়, যে কারণে তাতে পচন ধরেছে।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ জানান, ছোট একটি শিশুকে এভাবে বর্বরোচিত নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া সার্কেলের (চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলা) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
তিনি বিষয়টিকে একটি পৈশাচিক ঘটনা উল্লেখ করে জানান, এ ঘটনায় তিনজনকে আটকের পর আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।