সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বাঁশখালীতে যুবকের মৃত্যু: ‘ধাওয়া’ নাকি ‘পিছু নেওয়া’, পুলিশের বক্তব্যে প্রশ্ন

মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন | প্রকাশিতঃ ১৭ জুন ২০২৬ | ৭:১৭ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশের দাবি, ২০ হাজার পিস ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেল আরোহীদের পিছু নিয়েছিল পুলিশ। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা নিজেই “ধাওয়া” করার কথা বললেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলছেন, এটি পুলিশের ধাওয়ার ঘটনা নয়। দুই কর্মকর্তার এমন ভিন্ন ভাষ্য ঘটনাটিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি করেছে।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে পুঁইছড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ পুঁইছড়ি ফুটখালী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে শীলকূপ ইউনিয়নের মহল্লাপাড়া এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়ে মোটরসাইকেলটি।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মোটরসাইকেল আরোহী শহীদ (৩২) ও আরিফ আবদুল্লাহ (২৫)। আহতদের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে শহীদের অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। অপর আহত আরিফ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের কালু ফকিরপাড়া এলাকার নাজির হোসেনের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ পুঁইছড়ির ফুটখালী ব্রিজসংলগ্ন চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল হোসেন, কনস্টেবল ওয়াসিম, কনস্টেবল রাসেল এবং কয়েকজন সোর্স। এ সময় একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু মোটরসাইকেলটি না থেমে দ্রুত চলে যায়।

এ বিষয়ে একুশে পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে এসআই জামাল হোসেন দাবি করেন, মোটরসাইকেল আরোহীরা পালানোর সময় একটি কমলা রঙের ব্যাগ ফেলে যায়। ব্যাগটি তল্লাশি করে ২০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

অডিও রেকর্ডে এসআই জামাল বলেন, “তখন আমরা পিছনে ধাওয়া করছি। তখন তারা ব্যাগটা ওখানে ফালাইয়া দিছে।”

তিনি আরও বলেন, ইয়াবা উদ্ধারের পর থানায় এবং পরিচিত লোকজনকে ফোন করে মোটরসাইকেলটির গতিবিধি জানানো হয়। পরে মোটরসাইকেলটি টাইমবাজার হয়ে শীলকূপ ইউনিয়নের মহল্লাপাড়া এলাকায় পৌঁছে একটি আইল্যান্ড বা স্পিডব্রেকারে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে।

এসআই জামালের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

তবে একই ঘটনায় ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক।

তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, “পুলিশের ধাওয়ায় মারা যায়নি। তারা চেকপোস্টে সিগন্যাল অমান্য করে দ্রুত চলে যায়। যাওয়ার সময় একটি ব্যাগ ফেলে দেয়। পরে ব্যাগে ইয়াবা পাওয়া যায়। তখন পুলিশ তাদের পিছু নেয়। কিন্তু তারা অনেক দূরে চলে যাওয়ায় আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

ওসি আরও বলেন, “যেখানে ইয়াবা পাওয়া গেছে, সেখান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে তারা স্পিডব্রেকারে দুর্ঘটনায় পড়ে। অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।”

তবে ওসির বক্তব্যেও পুলিশ মোটরসাইকেলটির “পিছু নিয়েছিল” বলে উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে এসআই জামাল সরাসরি “ধাওয়া” করার কথা বলেছেন। ফলে ঘটনাটিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিহত শহীদের পূর্ণ পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তার বয়স ৩২ বছর বলে জানা গেলেও পিতার নাম-পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।