
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় দুই কিশোরীকে ঘিরে পৃথক দুটি ঘটনায় পরিবারগুলোর অভিযোগের পর এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। একটি ঘটনায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে, অন্য ঘটনায় উদ্ধার হওয়ার কয়েকদিন পর এক কিশোরী আবার নিখোঁজ হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাই তদন্তাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে।
বাঁশখালীর ঘটনায় মামলা
বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের এক কিশোরীকে নিয়ে দায়ের করা মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী কিশোরীর অভিভাবক দাবি করেছেন, গত ১ জানুয়ারি তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করা হয় এবং আদালতে হাজির করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন কবির মৃধা বলেন, ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
বাদী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।
নিখোঁজ আরেক কিশোরী
সাতকানিয়া উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিয়ে পৃথক আরেকটি অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
পরিবারের দাবি, গত ৪ জুন ওই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ ৬ জুন তাকে উদ্ধার করে। তবে উদ্ধার হওয়ার কয়েকদিন পর আবারও সে নিখোঁজ হয়।
শিক্ষার্থীর বাবা জয়নুল আবেদীন বলেন, মেয়েকে উদ্ধারের পর পুনরায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুল ইসলাম বলেন, প্রথমবার মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। দ্বিতীয়বার নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
মানববন্ধন ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
দুই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের স্থানীয় নেতারা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
সংগঠনটির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন খাঁন জসীম বলেন, তারা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত চান।
চা বাগান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
চাঁদপুর-বেলগাঁও চা বাগানের পঞ্চায়েতের সাধারণ সম্পাদক আপত তাঁতী বলেন, অভিযুক্তদের একজন আগে বাগানে অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে কর্মরত নন।
চা বাগানের কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার দে বলেন, ঘটনার পর পরিবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
চা বাগানের ম্যানেজার আবুল বাশার বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
পুলিশের অবস্থান
পুলিশ বলছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, উদ্ধার, মেডিকেল রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ।