সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রামে পারিবারিক মন্দির নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৯ জুন ২০২৬ | ১০:০৩ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম নগরীর একটি পারিবারিক মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘শ্রী শ্রী মাতা কামরূপ কামাখ্যা মন্দির’ নামের এই পারিবারিক মন্দিরের সাবেক পুরোহিত উৎসব চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এই মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর প্রচারণার অভিযোগ এনেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের নিজ ভবনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠাতা মৃত সুনীল বরণ দেবের সন্তান ডা. যীশুময় দেব।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সাবেক পুরোহিত উৎসব চক্রবর্তী মন্দিরের অভ্যন্তরে নারী ভক্তদের হেনস্তা, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রতারণায় লিপ্ত ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভক্তদের দেওয়া প্রমাণের ভিত্তিতে এসব গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালে পারিবারিক সিদ্ধান্তে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হীন অপপ্রচারের পথ বেছে নিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে ডা. যীশুময় দেব বলেন, অভিযুক্ত উৎসব চক্রবর্তীর পারিবারিক অসচ্ছলতা ও মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁকে তাঁদের পারিবারিক মন্দিরে মাসিক বেতনে নিত্যপূজার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মন্দিরে আসা নারী ভক্তদের সাথে তাঁর অশালীন আচরণ ও ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে প্রতারণার বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজেও এর সত্যতা মেলে। ডা. যীশুময় দেবের মা উৎসব চক্রবর্তীকে মন্দির ছেড়ে চলে যেতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হন।

সাবেক পুরোহিত উৎসব চক্রবর্তীর ভিডিও বার্তার অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে ডা. যীশুময় দেব আরও বলেন, সন্ধ্যা আরতির পর মন্দিরের প্রধান দরজা বন্ধ থাকে, তাই সেখানে কোনো অনৈতিক কাজের সুযোগ নেই।

তিনি জানান, গত ৮ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উৎসব চক্রবর্তী তাঁদের ও তাঁদের পারিবারিক মন্দির নিয়ে অত্যন্ত নোংরা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন। তাঁর এই ধরনের বক্তব্য ডা. যীশুময় দেবের চিকিৎসা পেশা এবং তাঁর ছোট ভাই অ্যাডভোকেট বিশুময় দেবের পেশাগত ও সামাজিক মর্যাদার চরম হানিকর।

আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনায় গত ১৬ জুন (মূল তথ্যে ১৬ জুলাই উল্লেখ ছিল, যা সময়কালের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় সংশোধন করা হয়েছে) চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৩৮৫) করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত উৎসব চক্রবর্তীর ফেসবুক আইডি ও ভিডিওর সত্যতা যাচাইসহ ডিজিটাল সাইবার আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট বিশুময় দেব, নেভী দাশ অথৈ, সম্পদ চক্রবর্তী এবং মন্দিরের বর্তমান পুরোহিত সঞ্জয় চক্রবর্তীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

অভিযোগের বিষয়ে উৎসব চক্রবর্তীর বক্তব্য জানতে পারেনি একুশে পত্রিকা।