সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পেকুয়ায় বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় নববধূর মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২০ জুন ২০২৬ | ৭:২৬ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সদরে বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় শ্বশুরবাড়ি থেকে কাজল রেখা (২০) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত কাজল রেখার পরিবারের দাবি, তাঁকে হত্যা করে মরদেহ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

খবর পেয়ে শনিবার (২০ জুন) বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে নিহত কাজল রেখার মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা-পুলিশ।

নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার বাসিন্দা গ্রাম পুলিশ সদস্য জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি স্থানীয় মুরাপাড়া এলাকার রাসেল উদ্দিনের ছেলে রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিয়ের এক মাস পর থেকেই সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালংকার স্বামী রাজু ইসলাম রানা বিক্রি করে দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ ধরনের ঘটনার জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।

নিহত কাজল রেখার পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। এরপর শনিবার দুপুরে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত কাজল রেখার ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম বকুল অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী রাজু ইসলাম রানা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

রাকিবুল ইসলাম বকুল আরও বলেন, তিনি নিজেই গিয়ে বোনকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে আসেন। তাঁর বোন যেতে চাননি, বলেছিলেন শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাঁরা তাঁকে মেরে ফেলবেন। শনিবার দুপুরে বোনের স্বামী রাজু ইসলাম রানা ভিডিও কলে তাঁর বোনের আত্মহত্যার কথা জানান। কিন্তু তাঁর বোন আত্মহত্যা করতে পারেন না। হত্যা করে আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

নিহত কাজল রেখার বাবা গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিন বলেন, তাঁর মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এর সঠিক বিচার চান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর রাজু ইসলাম রানা ভিডিও কলে তাঁর শাশুড়ির (কাজল রেখার মা) মোবাইলে ফোন করে কাজল রেখার মৃত্যুর খবর জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে নিহত কাজল রেখার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।

ওসি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান আরও জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এদিকে, মাত্র পাঁচ মাসের দাম্পত্য জীবনের পর কাজল রেখার এমন মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত কাজল রেখার স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।