
চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ এলাকায় গাউসিয়া হক ভান্ডারী খানকাহ শরীফের ব্যবস্থাপনায় পাঁচ দিনব্যাপী শোহাদা-ই কারবালা মাহফিলের তৃতীয় দিনের আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় বিবিরহাটের মাদ্রাসা-ই-শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারী মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাইজভান্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদের সদস্য এম মাকসুদুর রহমান হাসনু।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ তরিকুল আলম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আশুরা দিবসে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) কারবালায় অন্যায়, অবিচার ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ন্যায় এবং সত্যের জন্য রণাঙ্গনে অকুতোভয় লড়াই করে শাহাদতবরণ করেছিলেন। তিনি অসত্য, অধর্ম ও অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন বাজি রেখে সপরিবারে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। ইসলামের সুমহান আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য তাঁর এ বিশাল আত্মত্যাগ ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের রুবি গেট এলাকার ওষখাইনীরি নূরীয়া বিষু দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন মাওলানা মীর মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন নূরী আল কোরাইশী। তিনি বলেন, আহলে বায়তে রাসূল (দ.)-এর মোয়াদ্দত ও সাহাবায়ে কেরামের মুহাব্বত সকলের জন্য অপরিহার্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ রফিক বলেন, ইসলামের ইতিহাসে ফজিলতময় আশুরা বিভিন্ন ঘটনাপুঞ্জে সমৃদ্ধ থাকলেও হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদতই এ দিবসের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ইসলামের সুমহান আদর্শকে সমুন্নত রাখার জন্য ইমাম হোসাইনের (রা.) বিশাল আত্মত্যাগ ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ফটিকছড়ি মাদরাসা-এ গাউসুল আযম মাইজভান্ডারীর আরবি বিভাগের প্রভাষক মাওলানা মোহাম্মদ মুজিবুল হক মাইজভান্ডারী। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন মাওলানা সৈয়দ আবু আহমদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শোহাদা-ই কারবালা উদ্যাপন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, কো-চেয়ারম্যান ফজলুল হক ফজু, মো. মহিব উল্লাহ, উদ্যাপন পরিষদের সচিব মাওলানা কাজী হাবীবুল হোসাইন, আকতার মিয়া, মুহাম্মদ ওমর ফারুখ, মুহাম্মদ শওকত হোসাইন রুবেল, মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, সাংবাদিক বরুন কুমার আচার্য বলাই, আবদুল মান্নান, রোকনুজ্জামান টুটুল, মোহাম্মদ আবদুর রব এবং কাজী আশরাফ হোসাইন।
পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জিয়াউল হাসান সাইফ, আবু সাদাত সায়েম সুমন, সাইফুল ইসলাম, আহসান উল্লাহ চৌধুরী বিভন, হাফেজ মাওলানা হারুনুর রশিদ, সৈয়দ আনিসুল ইসলাম আলম, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ নুর মিয়া, মজিবুর রহমান রাসেল, মোহাম্মদ ওসমান, রাজা, জুয়েল, রিমন, রানা, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, রিপন ও বিজয়সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।