সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে ৪ জনের মৃত্যু

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৬ জুন ২০২৬ | ৭:৩৮ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামে পৃথক ঘটনায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে রাউজান ও নগরীর ডাবলমুরিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নির্মাণাধীন ভবনের ট্যাংকে কাজ করতে নেমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাঁরা প্রাণ হারান বলে জানিয়েছে হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডাবলমুরিং থানাধীন ধনিয়ালাপাড়া এলাকায় জাকির ম্যানশনের পাশে নির্মাণাধীন একটি ভবনের ওয়াটার রিজার্ভ ট্যাংকের সেন্টারিং খোলার কাজে দুজন ট্যাংকের ভেতরে নামেন। এ সময় ভেতরে জমে থাকা গ্যাসে তাঁরা অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের অজ্ঞান অবস্থায় চমেক হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তাঁদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে একজন হলেন সাকিব। সাকিবের পিতার নাম আমিনুল হক। সাকিবের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে। অপর নিহত ব্যক্তির নাম হৃদয় মিয়া (২৫)। হৃদয় মিয়ার পিতা মিলন মিয়া ও মাতা নাছিমা। হৃদয় মিয়া নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

একই দিনে রাউজান উপজেলায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন রাউজানের কচুখাইন এলাকার প্রদীপ দাশ এবং বোয়ালখালীর কদুরখিল এলাকার সমীরণ দাশ।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রতন ডাক্তারের নির্মাণাধীন বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে তাঁরা দুর্ঘটনার শিকার হন। নিহত প্রদীপ দাশ ওই বাড়ির মালিক রতন ডাক্তারের জামাতা বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথমে প্রদীপ দাশ ট্যাংকে নামেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ট্যাংকের গ্যাসে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে উদ্ধার করতে নামেন সমীরণ দাশ। পরে সমীরণ দাশও একইভাবে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক প্রদীপ দাশ ও সমীরণ দাশ দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।