সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

মালয়েশিয়া ও চীন সফরে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’, সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৭ জুন ২০২৬ | ২:২২ অপরাহ্ন


মালয়েশিয়া ও চীন সফরে ‘অভূতপূর্ব সাফল্যের’ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতীয় সংসদ। আজ শনিবার (২৭ জুন) সকালে সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব গৃহীত হয়। ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সংসদের বৈঠকের শুরুতে ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর আনা প্রস্তাবটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে ভোটে দেন স্পিকার। বিরোধী দলও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এ সফরের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নের পক্ষে এই সফর ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। সফরে দেশের নিরাপত্তা প্রশ্নে বিশ্ববাসীরও দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে জাতি ত্যাগ ও তิตিক্ষার বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, এর পর বহু কঠিন সময় অতিক্রম করতে হয়েছে। অতীতে এমন সরকারও ছিল যারা স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণ করেনি।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বর্তমান সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ফলে দেশবাসী আশান্বিত হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষও সফরটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ সফরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। সফলতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনেকগুলো চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। ফ্যাসিবাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে যাওয়ার সময় ও দেশে ফিরে সংবর্ধনা নিতেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, তারেক রহমান এই চর্চা বন্ধ করেছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো ধরনের সংবর্ধনা দেওয়া যাবে না। মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফলতা অনেক বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে ১৭টি এমওইউ হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও গণচীনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা তাদের ভূমিকা অক্ষুণ্ণ রাখবেন।

canপরে প্রস্তাবটির বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন প্রধানমন্ত্রী শুরু করেছেন। উনি যাওয়া বা আসার সময় বিমানবন্দরে হাজার লোকের সংবর্ধনা নেননি। সফর ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির উপর ভিত্তি করে। প্রতিটি দেশের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ, কারও হস্তক্ষেপ নয় এবং নিজস্ব সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে। প্রধানমন্ত্রীর সফর তা করেছে।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার, জ্বালানি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক স্বার্থ রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চীনের সঙ্গে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন স্বার্থ ও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতি শুধু নয়, বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কী হবে, পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে, তা নিশ্চিত করেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, দেশটা সবার। আমরা সবাই স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কথা বলে থাকি। এক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যেটুকু করণীয়, সরকারকে আশ্বস্ত করছি, সহযোগিতা করব। যে দুই দেশে সফর হয়েছে, তারা বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। শফিকুর রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি আমদানিনির্ভর দেশ। আমাদের রপ্তানির চেয়ে আমদানি অনেক বেশি। রপ্তানি বৃদ্ধিতে সংক্ষিপ্ত, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরে এ বিষয়গুলোতে আলোচনা করেছেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার স্বার্থে, বিদেশের সঙ্গে যতগুলো মৌলিক চুক্তি সম্পাদিত হবে তা এই সংসদে নিয়ে আসা উচিত। সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি যাই হোক সেটা হবে দুই দেশের স্বার্থের ভিত্তিতে। আমরা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না, আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাই না। সরকার যেন সংসদকে এড়িয়ে কিছুই না করে।

পরে ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রস্তাবে বলা হয়, ‘সংসদের অভিমত এই যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া এবং চীন সফরে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য এই মহান সংসদ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।’ কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

মালয়েশিয়া ও চীন মিলে ছয়দিনের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।