সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রাম-৪: প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে সীতাকুণ্ডে অবরোধ, পুনর্নির্বাচনের আশায় আসলাম

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৩০ জুন ২০২৬ | ৩:২৬ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রায়ের পর সীতাকুণ্ডে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তার সমর্থকরা। তবে এলাকার বাসিন্দা ও নেতা-কর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আসলাম চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিলের চূড়ান্ত রায় দেন।

এই খবর এলাকায় পৌঁছালে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা সীতাকুণ্ডের ছোট দারোগারহাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ওই মহাসড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নেতা-কর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানান আসলাম চৌধুরী। পোস্টে একটি সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড যুক্ত করে তিনি দাবি করেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্যমতে ওই আসনে পুনর্নির্বাচন হলে তার প্রার্থিতায় কোনো আইনি বাধা থাকবে না।

এর আগে গত ১৫ জুন আপিল শুনানি শেষে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। রায়ের পর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, আপিল মঞ্জুর হওয়ার অর্থ হলো আসলাম চৌধুরী অযোগ্য হয়েছেন। তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে এবং তার ক্ষেত্রে কোনো ফলাফল প্রকাশ করা হবে না।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন আসলাম চৌধুরী। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকায় আদালতের আদেশে তার ফলাফল স্থগিত ছিল।

আদালত সূত্র জানায়, আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রেখে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে লিভ টু আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করে আদেশে জানিয়েছিলেন, আসলাম চৌধুরী জয়ী হলেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার ফলাফল স্থগিত থাকবে।

লিভ টু আপিল মঞ্জুর হওয়ার পর গত ৩১ মার্চ আনোয়ার সিদ্দিকী পৃথক আপিল করেন। গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আপিলটি শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠান।

অন্যদিকে, আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ব্যাংক এশিয়া পিএলসি এবং যমুনা ব্যাংক পিএলসিও আবেদন করে। এর ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

মামলার শুনানিতে গত ১০ জুন আপিল বিভাগ আইনি সহায়তাকারী (অ্যামিকাস কিউরি) হিসেবে জ্যেষ্ঠ দুই আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগীর নাম ঘোষণা করেন এবং তারা শুনানিতে অংশ নেন।

আদালতে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। ব্যাংক এশিয়ার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম এবং যমুনা ব্যাংকের পক্ষে এ এস এম শাহরিয়ার কবির শুনানি করেন। আর জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।