
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় তরুণ সংগঠকদের নিয়ে ‘টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন: তরুণ সংগঠকদের করণীয়’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন ‘মোহনা’য় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এবং চকরিয়ার ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ যৌথভাবে এর আয়োজন করে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, দেশে দুর্নীতি নির্মূল ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ক্রান্তিকালের মতো দুর্নীতি নির্মূলেও তরুণদের সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতির প্রবণতা বেশি থাকে উল্লেখ করে তিনি এসব প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তরুণ সংগঠকদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সনাক সভাপতি সন্তোষ কুমার সুশীলের সভাপতিত্বে কর্মশালাটি পরিচালনা করেন টিআইবির সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর কাজী শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য দারিদ্র্য বিমোচন করতে হবে, আর এ ক্ষেত্রে আইনের শাসন গুরুত্বপূর্ণ। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের বিকল্প নেই। তিনি কর্মশালায় প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের উপাদান, চ্যালেঞ্জ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং তথ্য অধিকার আইন নিয়ে আলোচনা করেন।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে সনাক সদস্য ও ইয়েস উপ-কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রুনেন্দু বিকাশ দে বলেন, তরুণদের ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এরপর টিআইবির ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।
পরে সনাক সভাপতি সন্তোষ কুমার সুশীল অংশগ্রহণকারী তরুণ সংগঠকদের টিআইবির দুর্নীতিবিরোধী শপথবাক্য পাঠ করান। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে পারলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। নিজে সচেতন থাকলে দুর্নীতি কখনো কাউকে গ্রাস করতে পারবে না।
আয়োজকরা জানান, কর্মশালায় চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকার স্থানীয় ২৪টি সংগঠনের ৫০ জন তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। তারা দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণদের প্রতিবন্ধকতা এবং তা উত্তরণের উপায় নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।