সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বোয়ালখালীতে বাবার বিক্রি করা জমি ছেলের দখলচেষ্টার অভিযোগ

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২ জুলাই ২০২৬ | ৬:২৭ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডীতে প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে বিক্রি হওয়া একটি জমি নিয়ে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে বালি ভরাটের অভিযোগে পুলিশের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব গোমদণ্ডী গ্রামের আহমদ হোসেন ডিলারের বাড়ির শামশুল আলম চৌধুরী ও তাঁর চাচা আলী আহমদ চৌধুরী ১৯৭৬ সালের ১৯ জুলাই প্রতিবেশী আবু সৈয়দ চৌধুরীর কাছে ৪ শতক ভূমি বিক্রি করেন। পরবর্তীতে আবু সৈয়দ চৌধুরীর কাছ থেকে উত্তরাধিকার ও দানসূত্রে ওই সম্পত্তির মালিক হন মোহাম্মদ সলিম।

গত ১ জুলাই ওই জমিতে বালি ভরাট শুরু করেন শামশুল আলম চৌধুরীর ছেলে ফজল করিম চৌধুরী। এ ঘটনায় বর্তমান মালিক মোহাম্মদ সলিমের পক্ষে তাঁর আমমোক্তার অ্যাডভোকেট মামুনুল হক চৌধুরী বোয়ালখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বোয়ালখালী থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বালি ভরাট বন্ধ করে দেয়। পুলিশ উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় বিএনপি নেতা ইসহাক চৌধুরী রেলওয়ের ৮ শতক জমি ইজারা নিয়ে সেখানে একটি কাঁচাবাজার নির্মাণ করেন। অভিযুক্ত ফজল করিম চৌধুরী ওই বিএনপি নেতার চাচাতো ভাই। বাজার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে বাজারের পাশের এই জমিটি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

তবে জমির পরিমাপ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। এসআই জুয়েল রানা জানান, ওই স্থানে মোট জায়গার পরিমাণ সাড়ে ১২ গণ্ডা (২৫ শতক)। এর মধ্যে ২ গণ্ডা (৪ শতক) বিক্রি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের দাবি, তারা তাদের নিজস্ব অংশেই বালি ভরাট করছেন। এ বিষয়ে কাগজপত্র যাচাই করতে সন্ধ্যায় থানায় উভয় পক্ষের বৈঠক ডাকা হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযোগকারী অ্যাডভোকেট মামুনুল হক চৌধুরী জানান, আর.এস জরিপে সাড়ে ১২ গণ্ডা (২৫ শতক) জমি থাকলেও চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইনের জন্য ২১ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। অধিগ্রহণের পর অবশিষ্ট থাকা ৪ শতক জমিই বি.এস জরিপের ১০৯৬ খতিয়ানে ৭৭৩৯ দাগে রেকর্ড হয়, যা ১৯৭৬ সালে বিক্রি করা হয়েছিল।