
সম্ভাবনাময় চট্টগ্রামকে দেশের অর্থনীতির লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর শনিবার প্রথমবারের মতো নিজ শহর চট্টগ্রামে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ যেভাবে আকৃষ্ট করা হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি ট্রেড জোন স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বাজেটে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে এখানে বন্দর সুবিধার পাশাপাশি একসঙ্গে অনেকগুলো বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো ও প্যাসেঞ্জার হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনাও বাজেটে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ীকে ঘিরেও বড় ধরনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম দেশের অর্থনৈতিক করিডর ও লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে।
এসব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগলেও যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিগত সরকারের কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব। আগে এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে সমৃদ্ধির ধারা শুরু হবে এবং অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।
গত এপ্রিলে জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছিলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ সবই দেশে আসছে। বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য, তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, বিএনপি নেতা আবুল হাশেম বক্কর এবং আইনজীবী আবদুস সাত্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।