
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শরীফকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
যোগদানের মাত্র ১৭ দিনের মাথায় তাকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় সিএমপির ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়।
আদেশে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না থাকলেও সিএমপি সূত্র জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ওঠা কিছু অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১৮ জুন সিএমপির নগর বিশেষ শাখা (সিটি এসবি) থেকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে যোগ দেন মোহাম্মদ শরীফ। তবে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। এর আগেও বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল।
গত বছরের জুলাইয়ে কর্ণফুলী থানায় দায়িত্ব পালনকালে ১০ বছর বয়সী শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের নামে অর্থ আদায় এবং পরে শিশুটির মাকে বিষয়টি চেপে যেতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা মানববন্ধন করে তার শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন।
এছাড়া একটি স্পর্শকাতর মামলার আলামত গায়েবের ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক সিরাজাম মুনীরা ওসি শরীফসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মামলার নথি অনুযায়ী, পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জব্দ করা আলামত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বুঝে না নিয়েই তিনি অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন।
কর্ণফুলী থানায় দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এরপরই তাকে সিটি এসবিতে বদলি করা হয়েছিল।
সদরঘাট থানায় যোগ দেওয়ার পর পুরনো অভিযোগগুলোর পাশাপাশি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে ওসি শরীফের বিরুদ্ধে।