
জীবিকার তাগিদে ওমানে গিয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার যুবক মো. জামাল (৩৯)। দীর্ঘদিন পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ঘাগড়া খিল মোগল ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাদামতলী এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।
একই দিন সকালে স্থানীয় মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জামাল ওই এলাকার মো. হোসেনের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ঋণ করে ওমানে যান জামাল। সেখানে তিনি এসি-ফ্রিজ মেরামত ও নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে ওমানের আল আমরাত এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। এতে তার মেরুদণ্ড ও পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে।
সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন। পরে তার শরীরে পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস) দেখা দেয়।
ওই সময় জামালের ছোট ভাই প্রবাসী মো. বাবুল জানিয়েছিলেন, চিকিৎসায় প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছিল এবং শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় তাকে সাধারণ বিমানে দেশে আনাও সম্ভব ছিল না।
পরে জামালের চিকিৎসার বিষয়টি গণমাধ্যমে এলে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিভিন্ন সংগঠন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
সবার সহযোগিতায় তাকে দেশে এনে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সাত বছর বয়সী এক ছেলে এবং পাঁচ বছর বয়সী এক মেয়ে রেখে গেছেন।