
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের রেললাইনে পানি জমে থাকায় পর্যটক এক্সপ্রেসের পর এবার কক্সবাজার এক্সপ্রেসেরও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অংশের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এর আগে মঙ্গলবার একই কারণে বাতিল করা হয় পর্যটক এক্সপ্রেস, প্রবাল এক্সপ্রেস ও সৈকত এক্সপ্রেসের যাত্রা।
রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর-জানালিহাট সেকশনের মধ্যবর্তী একটি জায়গায় রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানিতে ডুবে আছে। পানি না কমায় ট্রেনগুলো কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টায় ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজার এক্সপ্রেস বুধবার ভোরে চট্টগ্রাম পৌঁছায়। কিন্তু সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় রেললাইনে পানি থাকায় এটি আর কক্সবাজার যেতে পারেনি। ট্রেনটি বুধবার বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম থেকে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
আটকে পড়া যাত্রীদের বিষয়ে রেলওয়ে জানিয়েছে, যাত্রীরা চট্টগ্রাম স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিটের টাকা ফেরত নিতে পারবেন। এছাড়া যারা ঢাকায় ফিরতে চান, তারা একই টিকিট দিয়ে বিকেল ৪টায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসে করে যেতে পারবেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশন অতিক্রম করে। সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় যাওয়ার পর সামনের রেললাইন পানিতে তলিয়ে থাকায় ট্রেনটি আবার ষোলশহর স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ট্রেনটি ষোলশহর থেকে চট্টগ্রামের মূল স্টেশনে নেওয়া হয়। পরে এর কক্সবাজার যাত্রা বাতিল করে বুধবার সকালে ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
এছাড়া মঙ্গলবার বেলা ৩টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস এবং রাতে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী সৈকত এক্সপ্রেসের যাত্রাও বাতিল করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান।