
টানা বৃষ্টি ও বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
উপজেলার খানখানাবাদ, সাধনপুর, বাহারছড়া, সরল, গণ্ডামারা, শেখেরখীল ও ছনুয়া এলাকার কয়েকটি স্থান দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকছে। এর মধ্যে খানখানাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রোসাঙ্গী পাড়া এলাকার বেড়িবাঁধটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানির চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলের জনজীবন।
উপকূলবাসীকে সুরক্ষা দিতে বাঁশখালীতে ৪৯৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের অধীনে ৬ দশমিক ২১০ কিলোমিটার সমুদ্র তীর প্রতিরক্ষা ও বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। তবে এই কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সাধনপুরের বৈলগাঁও এলাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের পাথর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মজুত করা পাথরের সামনের সারিতে ভালো মানের পাথর রাখা হলেও পেছনে ও নিচে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রকৌশলীদের মতে, বাঁধের সিসি ব্লকের ভেতর বা পেছনে নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করলে জোয়ারের তীব্র চাপে দুর্বল অংশগুলো ভেঙে পুরো বাঁধটি ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খানখানাবাদসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে সীমিত পরিসরে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কাজের গুণগত মান বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, বারবার বরাদ্দ দেওয়ার পরও কাজের মান ঠিক না থাকায় বাঁধ টেকসই হচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার তাগিদ দেন তিনি।
পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (বাঁশখালী) অনুপম পাল জানান, চলমান কাজের গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে বাঁশখালীতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই বিভীষিকা ভুলতে পারেনি উপকূলবাসী। বাঁধের বর্তমান নাজুক অবস্থা দেখে তারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন।