
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ডলু, টংকাবতী ও হাঙ্গর খালের পানি দ্রুত বাড়ছে।
প্রবল স্রোতে এরই মধ্যে কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় প্লাবনের ঝুঁকিতে পড়েছেন তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
বুধবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খালগুলোর পানির উচ্চতা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
পদুয়া ইউনিয়নের উত্তর পদুয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগরপাড়া এলাকায় হাঙ্গর খালের ভাঙনে চলাচলের প্রধান সড়কের একটি বড় অংশ খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন।
এদিকে চরম্বা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া-মদিনারপাড়া গ্রামীণ সড়কের বেশিরভাগ অংশ টংকাবতী খালের তীব্র স্রোতে ভেঙে গেছে। অবশিষ্ট অংশ ভেঙে গেলে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আধুনগর ইউনিয়নের সরদানীপাড়া এলাকার বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন জানান, ডলু খালের সরদানীপাড়া অংশে ভাঙন দিয়ে প্রতিনিয়ত পানি প্রবেশ করছে। খালের পানি আরও বাড়লে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ডলু খালের তীব্র স্রোতে পুটিবিলা মিয়াপাড়া কবরস্থান-সংলগ্ন সড়কেও ভাঙন দেখা দিয়েছে।
আমিরাবাদ রাজঘাটা এলাকার বাসিন্দা ও সংবাদকর্মী রাব্বি জানান, টংকাবতী খালের সেতুর নিচে বটতলী শহরের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই খালের পানি বাড়ে। তবে এবার মৌসুমের শুরুতেই পানির চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা না নিলে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
সার্বিক বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান, বুধবার দিনভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন তিনি।
আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় খালের তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।