সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি দুই লাখ মানুষ

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৮ জুলাই ২০২৬ | ১০:২৭ অপরাহ্ন


টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। চকরিয়া ও মাতামুহুরীর শতাধিক গ্রামের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে দুই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বুধবার বিকালে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে প্লাবিত এলাকার পরিধি আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভারী বৃষ্টিতে গত চারদিন ধরে চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা এবং উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর, বরইতলী, হারবাং, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বমুবিলছড়ি, ফাঁসিয়াখালী, চিরিঙ্গা ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে।

উপকূলীয় অঞ্চলের মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের শত শত ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ প্রধান সড়ক। এতে অনেক এলাকা উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

চকরিয়া পৌরশহরের হাসপাতাল পাড়া, থানা সেন্টার ও মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে গ্রামীণ সড়ক, কাঁচা ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং চিংড়ি ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দিলীপ দে জানান, বন্যায় রাস্তাঘাট, কাঁচা ঘরবাড়ি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এসবের তালিকা চাওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিস্তারিত তথ্য জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হবে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলের সব স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসসহ প্রশাসনের সব বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পাহাড় ও ঢালুতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বুধবার দিনভর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেড়েছে। আগামী ছয় থেকে সাত দিন কক্সবাজারে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে।