সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট পুনর্বহালের রায় সুপ্রিম কোর্টে বহাল

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৯ জুলাই ২০২৬ | ১০:৪২ পূর্বাহ্ন

Supreme Court
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার সকালে এ রায় দেন।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল–সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়টি বহাল রইল।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মোট তিনটি আপিল করা হয়েছিল। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন একটি আপিল করেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথক আরেকটি আপিল করেছিলেন।

গত সোমবার এসব আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। মঙ্গলবার এবং বুধবার শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছিলেন।

এর আগে বুধবার এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মূলত দেশের সংবিধানের আমূল পরিবর্তন করা হয়েছিল। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের বাক্‌স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং দেশের অগ্রযাত্রা সবকিছুই বাধাগ্রস্ত ছিল।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন ও আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট হয়।

চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং গণভোট বাদ দেওয়া-সংক্রান্ত সংবিধান আইনের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪(২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সংসদে পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল। এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করা হয়। পাশাপাশি অবৈধ ক্ষমতা দখল করলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতির এবং সংবিধানে চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা হয়।