সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলে নিয়ে মারধর, কাঠগড়ায় ছাত্রদল নেতা

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১০ জুলাই ২০২৬ | ৩:৫৫ অপরাহ্ন


পূর্ববর্তী একটি মারামারির জেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো. রায়হান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায়।

অন্যদিকে অভিযুক্ত মুসাদ্দিকুজ্জামান আল-মামুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক।

ভুক্তভোগী রায়হানের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা মামুন ও তার অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে তাকে তুলে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রায়হান বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অবস্থান করছিলেন।

সেখান থেকে তাকে জোরপূর্বক তুলে স্লুইসগেট এলাকায় নিয়ে যান আল-মামুন ও তার সহযোগীরা।

পরে পার্শ্ববর্তী ব্রিকফিল্ড এলাকায় নিয়ে রায়হানকে মারধর করা হয় এবং তার মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আগের মারামারির ঘটনায় সম্পৃক্ততার মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে একটি ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় ফুটবল খেলা দেখানোর সময় একটি বিরোধ তৈরি হয়।

ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসা ও ধূমপান করার অভিযোগে মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার দিশানের সঙ্গে মামুনের মারামারি হয়।

এর জেরে পরদিন ৩০ জুন রাতে শাহজালাল হলের সামনে দিশানসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একদল শিক্ষার্থী মামুনের ওপর হামলা চালান।

এ ঘটনার পর শাহজালাল হলে অবরুদ্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে আসা শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমানের ওপরও চড়াও হন ছাত্রদল কর্মীরা।

ঘটনাস্থলে যাওয়া প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও কর্মরত সাংবাদিকদেরও হেনস্তা করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

তবে রায়হানকে মারধর ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুসাদ্দিকুজ্জামান আল-মামুন।

তিনি দাবি করেন, কয়েক দিন আগের ঘটনার বিষয়ে জানতে তিনি কেবল রায়হানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তখন তিনি একা ছিলেন এবং মারধর বা ভিডিও ধারণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কেউ অন্যায় করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের কাছে অভিযোগ দিলে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানান, তারা এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।