সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

লোহাগাড়ায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের আগুনে পুড়ে ছাই সাতটি দোকান

অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি, নিঃস্ব একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১১ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩২ পূর্বাহ্ন


বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার দরবেশহাট বাজারে অন্তত সাতটি দোকান পুড়ে গেছে।

এতে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। শনিবার ভোররাতে বাজারের দীঘির দক্ষিণ পাশে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে শামসুল আলমের সারের দোকান, আবু তাহেরের ডেকোরেশন ও লেপ-তোষকের দোকান এবং নাজিম উদ্দিনের লেপ-তোষকের দোকান ও কারখানা।

এছাড়া জমির উদ্দিনের ইলেকট্রনিকসের দোকান এবং রতন কর্মকারের কামারের দোকানসহ মোট সাতটি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফৌজুল কবির জানান, ভোররাতে একটি দোকানে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে তিনি বাজারের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের আগুন নেভানোর কাজে ডাক দেন।

পরে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শামসুল আলম জানান, ভোরে দোকানের কর্মচারীর কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান।

দোকানে থাকা সার, মালামাল ও নগদ টাকাসহ সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় তিনি এখন চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

আরেক ব্যবসায়ী আবু তাহের জানান, তার ডেকোরেশনের সরঞ্জাম ও লেপ-তোষকের সব মালামাল পুড়ে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র রুদ্র জানান, প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।