সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ফটিকছড়ির বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর ত্রাণ বিতরণ

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১১ জুলাই ২০২৬ | ৫:৩৮ অপরাহ্ন


টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এসব এলাকার দুর্গত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

শনিবার গুইমারা রিজিয়নের অধীন লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে ফটিকছড়ি উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় এই জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এদিন সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি ও আশপাশের এলাকায় নৌযানসহ বিভিন্ন উপায়ে দুর্গম স্থানে পৌঁছান সেনাসদস্যরা। প্রথমে তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করেন।

এরপর পানিবন্দি এসব পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে চাল, ডাল, তেল, লবণ ও শুকনো খাদ্যসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি সেনাসদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে নিরাপদে অবস্থান, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তারা।

সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।

পানিবন্দি মানুষের খাদ্যসংকট মোকাবিলা ও দুর্ভোগ লাঘবে গুইমারা রিজিয়নের সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের জানমাল রক্ষা এবং মানবিক সহায়তা প্রদানে সেনাসদস্যরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে এই ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

এদিকে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষেরা জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর থেকেই যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশ ও জাতির সেবা করে আসছে।

উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ কিংবা পুনর্বাসনে সেনাবাহিনীর এই ভূমিকা তাদের কাছে ক্রান্তিকালে ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন স্থানীয়রা।