
উজানের পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণে হালদা নদীর বাঁধ ভেঙে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অন্তত ৩০টি গ্রামের প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ষষ্ঠ দিনেও এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল পানির নিচে থাকায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন দুর্গতরা।
শনিবার ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢলের চাপে হালদা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। নদীর বাঁধ উপচে ও ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
দুপুরের পর পানি কিছুটা কমলেও পুনরায় ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
পাহাড়ি ঢলের পানিতে গহিরা-হেয়াকো সড়ক এবং নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন খাল-ছড়ার পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং মানুষ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন।
প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে পাইন্দং ইউনিয়নের ফকিরাচাঁন এবং ভূজপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া। এছাড়া হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের করাতিপাড়া, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড, পাটিয়ালছড়ি ও বড়ুয়াপাড়া এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
সুয়াবিল ইউনিয়নের সিকদারপাড়া, মাইজপাড়া ও বারোমাসিয়া এবং সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া, আজিমপুর, পূর্ব আজিমপুর ও পশ্চিম সুন্দরপুর পানিতে তলিয়ে গেছে।
রোসাংগিরী ইউনিয়নের মাইজভান্ডারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং লেলাং ইউনিয়নের রায়পুর, শাহনগর ও দারুল আলী তালুকদারবাড়ি এলাকাও পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
পাশাপাশি নারায়ণহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড, বখতপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং জাফতনগর ও সমিতিরহাটের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে ভাসছে।
সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়ার বাসিন্দা মো. লেয়াকত জানান, হালদা নদীর বাঁধ উপচে পুরো গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে এবং কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। কোথাও কোমরসমান আবার কোথাও হাঁটুপানি থাকায় চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।
আজিমপুরের বাসিন্দা আম্মার হেসেন বলেন, রাত থেকে হালদার পানি গ্রামসহ আশপাশে ঢুকছে। তিনি জানান, শনিবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
বখতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক-উল আজম জানান, তার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গত তিন দিন ধরে প্রায় ৫০০ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। দুর্গত মানুষের সহায়তায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, শনিবার দুপুরে নাজিরহাট পৌরসভার রশিদাপুকুর এলাকায় হালদা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
ফটিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফটিকছড়ির বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় ছয়-সাত হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রেখেছে বলে তিনি জানান।