সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

খাগড়াছড়িতে দুর্গতদের পুনর্বাসনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

আলমগীর হোসেন | প্রকাশিতঃ ১১ জুলাই ২০২৬ | ১০:০৯ অপরাহ্ন


খাগড়াছড়িতে বন্যাদুর্গত মানুষের পুনর্বাসন এবং ঘরবাড়ি ও ফসলের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।

শনিবার বিকেলে খাগড়াছড়ির বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের সময় তিনি এই কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্গতদের জন্য যা যা করণীয়, সরকার তার সবই করবে। আপাতত খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বন্যা মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সম্মিলিত ভূমিকার প্রশংসা করেন এম ইকবাল হোসেইন।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও জেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

প্রায় তিন হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

বন্যায় দীঘিনালা উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরুং এলাকায় সেতু তলিয়ে যাওয়ায় টানা চার দিন ধরে খাগড়াছড়ির সঙ্গে রাঙামাটির লংগদু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

দুর্গত এলাকায় জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং জেলা বিএনপির উদ্যোগে ত্রাণ ও রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত আরও জানান, বন্যা মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসনের জন্য ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুকূলে ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে।

বন্যায় জেলার অভ্যন্তরীণ ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্তত এক হাজার হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ ধানের চারা, সবজির ক্ষেত ও ফলবাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাশাপাশি কয়েকশ পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং পাহাড় ধসে শতাধিক বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা এবং পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছারসহ জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।