
টানা পাঁচ দিন পর মেরুং হেডকোয়ার্টার রোডের পানি নেমে যাওয়ায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালার সাথে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার সড়ক যোগাযোগ পুনরায় সচল হয়েছে।
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করায় জনজীবনে স্বস্তি ফিরছে।
গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে দীঘিনালার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল।
এতে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
গত দুদিন ধরে বৃষ্টির মাত্রা কমে যাওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকাগুলো থেকে ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে।
মেরুং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজন নিজ নিজ ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।
পানি নেমে গেলেও চারদিকে রেখে গেছে বন্যার ব্যাপক ক্ষত।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখন ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে জমে থাকা মোটা পলিমাটি ও কাদা পরিষ্কার করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
মেরুং বাজারের আফছার কুলিং কর্ণারের মালিক মো. আফছার তার বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানান।
তিনি জানান, বন্যার কারণে এক সপ্তাহ ধরে দোকানপাট বন্ধ ছিল এবং মালামাল তলিয়ে গিয়ে তিনি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
দোকানটি দ্রুত চালু করার জন্য আজ তিনি জমে থাকা পলি ও কাদামাটি পরিষ্কার করেছেন।
কবাখালি এলাকার বাসিন্দা মো. শাহের আলী জানান, ঘরে বন্যার পানি ওঠায় তার থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই।
ঘরের মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি বর্তমানে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছেন।
তিনি জানান, দিনমজুর হওয়ায় তার কাজও বন্ধ রয়েছে এবং এখনো পর্যন্ত কোনো জায়গা থেকে ত্রাণ সহায়তা পাননি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বন্যায় উপজেলার তিন কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক, আউশ ও আমন ধানের বীজতলা, শাকসবজি এবং পুকুরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আগামী এক-দুদিনের মধ্যে বন্যায় সম্পূর্ণ ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে বলে তারা জানান।
বন্যাকবলিত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হচ্ছে।
ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, রেডক্রিসেন্ট এবং আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশন রয়েছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক বিষয়ে কথা বলেছেন।
তিনি জানান, পানি নেমে যাওয়ায় বর্তমানে জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে এবং প্রশাসনের ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।