সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সচিবের সামনে জনপ্রতিনিধিকে প্রকৌশলীর বাধা, বলতে দিলেন সচিব

মেগা প্রকল্পের সুফলের বদলে জলাবদ্ধতার উল্টো বিপত্তি
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৩ জুলাই ২০২৬ | ৬:৩৯ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের পটিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১ হাজার ২৯১ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজের ধীরগতি ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অভিযোগে পানিসম্পদ সচিবের সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক জনপ্রতিনিধি।

তবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ.কে.এম. শাহাবুদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রকল্পের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না এবং আগামী জুনের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে।

সোমবার দুপুরে পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, হাবিলাসদ্বীপ ও কাশিয়াইশ ইউনিয়নে চলমান পাউবোর দুটি মেগা প্রকল্প পরিদর্শনকালে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।

পরিদর্শনকালে প্রকল্পের ধীরগতি এবং খালের মুখে স্লুইস গেট নির্মাণকাজে দেওয়া বেড়িবাঁধের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিয়ে অভিযোগ ওঠে।

এ সময় হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ ইয়াকুব কথা বলার এক পর্যায়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ তাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তখন সচিব ড. এ.কে.এম. শাহাবুদ্দিন আহমদ প্রকৌশলীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “উনাকে বলতে দেন।”

এরপর ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইয়াকুব বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং অপরিকল্পিতভাবে দেওয়া বাঁধটি কেটে দেওয়ার দাবি জানান।

জানা গেছে, পটিয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের আওতায় দুটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পাউবো।

এর মধ্যে ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে হাইদগাঁও শ্রীমতি খালের ওপর হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম, ব্লক স্থাপন, বনায়ন ও মনিটরিং সেন্টার নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এছাড়া ১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৫ কিলোমিটারজুড়ে পাঁচটি বেড়িবাঁধ এবং ২৫টি স্লুইস গেট নির্মাণের কাজ চলছে।

তবে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় দ্বিতীয় প্রকল্পটির কাজ আটকে আছে।

দুটি প্রকল্পের প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ সচিব ড. এ.কে.এম. শাহাবুদ্দিন আহমদ দ্রুততম সময়ে বাকি কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

এ সময় পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ এবং পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা ও পাউবোর সহকারী প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার সেখানে ছিলেন।

হাইদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন এবং পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলমসহ সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ সচিব সাংবাদিকদের জানান, ১৩৩ কোটি টাকার প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

চীন থেকে যন্ত্র এলে হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম স্থাপন করা হবে এবং একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) নির্মাণ করে আগামী জুনের মধ্যেই এই কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ড. এ.কে.এম. শাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, ১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকার প্রকল্পটির অবকাঠামোর কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও জমি অধিগ্রহণ সম্পূর্ণ না হওয়ায় তা থমকে আছে।

ইতোমধ্যে ওই প্রকল্পের ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে জানিয়ে তিনি জেলা প্রশাসনকে দ্রুত জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন করতে বলেছেন।

কয়েকটি স্লুইস গেটের কাজ সম্পন্ন হলে পানিনিষ্কাশনের সমস্যাও থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সচিব আরও জানান, সরকারের প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, চলমান বর্ষায় অতিরিক্ত পানির কারণে দুই প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হলেই পুনরায় কাজ শুরু হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাবিলাসদ্বীপের মিলিটারি সেতু এলাকায় পাউবোর বাঁধের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার সমস্যাও দ্রুত সমাধান করা হবে।

হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ ইয়াকুব অভিযোগ করেন, মিলিটারি সেতু এলাকায় স্লুইস গেটের বাঁধে পুরো ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কয়েকশ পুকুর তলিয়ে গেছে।

পরে স্থানীয়রা বাঁধটির কিছু অংশ কেটে দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বিষয়টি সচিবকে অবহিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।