
সামগ্রিক ভর্তুকি কমাতে বিদ্যুতের দাম আরও সমন্বয়ের কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এমন প্রশ্নের জবাবে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি বিভাগ এবং অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বহুপাক্ষিক এই ঋণদাতা সংস্থার তথ্যানুসন্ধানী মিশন এ বিষয়ে জানতে চায়।
মূলত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত নতুন ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী আলোচনার অগ্রবর্তী দল হিসেবে আইএমএফের এই মিশনটি বাংলাদেশ সফর করছে।
এদিন বিকালে আইএমএফ মিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠকের পর তিনি জানান, ভর্তুকি, রাজস্ব এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকারের কৌশল ধীরে ধীরে এবং যৌক্তিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা আইএমএফকে জানান, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতের ভর্তুকি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, যার জন্য বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পরিচালন ক্ষতি কমাতে গত মাসেই বিদ্যুতের দাম ১৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বলে মিশনকে অবহিত করা হয়।
একইসঙ্গে তাদের জানানো হয় যে, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে, যা গত তিন বছর ধরে এমনিতেই অনেক বেশি রয়েছে।
বৈঠকে আইএমএফ ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সারের আমদানি ব্যয় নিয়ে বিস্তারিত জানতে চায়।
পাশাপাশি জ্বালানি পণ্য ও রাসায়নিক সারের জন্য সরকারের সার্বিক ভর্তুকি নিয়েও তারা প্রশ্ন তোলে।
এর জবাবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির বরাদ্দ গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মতোই রয়েছে।
উল্লেখ্য, আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সরকারের কাছে ভর্তুকি যৌক্তিক করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে আইএমএফ মিশন প্রস্তাবিত নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য বিকালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে বৈঠক করে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী জানান, ভর্তুকি নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ ঋণ কর্মসূচির জন্য নীতিগত কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়েই মূলত বর্তমান আলোচনা চলছে।
আমীর খসরু আরও জানান, আইএমএফ সরকারের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগের প্রশংসা করেছে এবং এই ধারাবাহিক সংস্কার কৌশলে সমর্থন দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
গত চার মাসে আর্থিক খাতের সংস্কার, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং রাজস্ব সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার।
বর্তমান সরকার ২০২৩ সালে আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সই করা ঋণ কর্মসূচিটি আর চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আইএমএফের ওই ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির মধ্যে ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার ছাড় হওয়া বাকি ছিল।
নেগোসিয়েশন বা আলোচনাকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করে আমীর খসরু জানান, আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভার ফাঁকে আইএমএফের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।