সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পাঁচ মেয়ের স্বপ্ন চুরি হলো এক রাতে, দিশেহারা মা

জিন্নাত আয়ুব | প্রকাশিতঃ ১৭ জুলাই ২০২৬ | ১০:১৯ অপরাহ্ন

নাছিমা আকতার জানতেন সংসার চালানো কতটা কঠিন। পাঁচ মেয়ে, স্বামীর ভাড়ার সিএনজি, এনজিওর কিস্তি— এই নিয়েই দিন চলত। তবু একটা স্বপ্ন ছিল। একটু কষ্ট করলে হয়তো মেয়েগুলো পড়াশোনা করতে পারবে, মানুষ হবে। সেই স্বপ্নকে বাস্তব করতে এনজিও থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিলেন। স্বামী মফজল আহমদকে কিনে দিলেন একটি নিজস্ব সিএনজি অটোরিকশা। নিজের গাড়ি হলে আয় বাড়বে, কিস্তিও শোধ হবে, মেয়েদের পড়াও চলবে।

কিন্তু গত রবিবার (১২ জুলাই) রাতে সেই স্বপ্নটা চুরি হয়ে গেল।

রাতের আঁধারে উঠান থেকে গেল সিএনজি

১২ জুলাই রবিবার দিবাগত রাত। আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মধ্যম শিলাইগড়া এলাকায় সাইর মোহাম্মদের বাড়ির উঠানে রাখা ছিল মফজলের সিএনজি। রাত একটা থেকে তিনটার মধ্যে কোনো এক সময় চোরচক্র সেটি নিয়ে পালিয়ে যায়। রেজিস্ট্রেশন নম্বর চট্টগ্রাম-থ-১৪-৭৩১৪, আনুমানিক মূল্য আড়াই লাখ টাকা।

সকালে উঠে মফজল দেখলেন উঠান খালি। এনজিওর কিস্তি এখনো শেষ হয়নি, আর যে গাড়ি দিয়ে কিস্তি শোধ করার কথা ছিল সেই গাড়িই নেই।

নাছিমা আকতার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন, “এনজিওর কিস্তির টাকা এখনো শোধ হয়নি। তার ওপর পাঁচ মেয়ের মুখের ভাত আর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। পুলিশ কি পারবে আমাদের বেঁচে থাকার এই একমাত্র অবলম্বনটি খুঁজে দিতে?”

সিসিটিভিতে ধরা পড়ল চোরের পথ

তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে। শাহ আমানত সেতুর টোলপ্লাজার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ১২ জুলাই রাত ৩টা ৪ মিনিটে একটি সবুজ রঙের সিএনজি অটোরিকশা টোলপ্লাজা পার হয়ে যাচ্ছে। চুরির সময়সীমার ঠিক পরেই এই দৃশ্য। মফজল আহমদ নিশ্চিত করেছেন, এটি তাঁর চুরি যাওয়া গাড়ি।

নাছিমা আকতার বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। সাক্ষী হিসেবে আছেন নূর মোহাম্মদ, মো. বাবুল ও মফজল আহমদ।

আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েদ চৌধুরী জানান, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। জিডির ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ইনশাআল্লাহ, চোরচক্রকে শনাক্ত করে দ্রুত গাড়িটি উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

সিসিটিভি ফুটেজে গাড়ি দেখা গেছে, পুলিশ তদন্ত করছে— এতটুকু জানেন নাছিমা। কিন্তু রাতে ঘুম নেই। পাঁচটি মেয়ে প্রশ্ন করছে, আম্মু সিএনজি কোথায় গেল? সেই প্রশ্নের জবাব এখনো নেই তাঁর কাছে। কিস্তির টাকা ফেরত দেবেন কীভাবে, মেয়েদের পড়াশোনা চলবে কীভাবে— এই হিসাব মেলাতে মেলাতে দিন কাটছে একটি অসহায় পরিবারের।