
এমপিও সুবিধা বাতিলের শঙ্কায় চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় নবম শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
গত ১৪ জুলাই পটিয়ার ইউএনও ফারহানুর রহমানের কাছে এই লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগকারী দশ শিক্ষার্থী হলেন ইছমা আক্তার, নুসরাত জাহান, অনিক দাশ, সাবিহা আক্তার, মুমু শীল, শ্রাবন্তী দাশ, ইকরা আক্তার, নিশি বণিক, পুষ্পিতা দাশ এবং ইমু দে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা চক্রশালী কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তি হয়ে সারা বছর প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ঠিক আগের দিন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
জানা যায়, চক্রশালী কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে নবম শ্রেণিতে আড়াইশোর বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। কিন্তু ২০২৬ সালের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাত্র ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে গেলে ওই বিভাগের এমপিও সুবিধা বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মূলত এমপিও সুবিধা টিকিয়ে রাখতেই ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিতে চাপ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ইছমা আক্তার জানান, বছরের শুরুতে তারা ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। পরীক্ষার এক দিন আগে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দেওয়ার কথা শুনে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তার বাবা একজন দিনমজুর হওয়ায় বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার অতিরিক্ত খরচ বহন করা তাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়।
ইছমা আক্তার আরও জানান, বন্যা পরিস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত হলেও তারা গ্রুপভিত্তিক পরীক্ষা ছাড়া অন্য বিষয়গুলোর পরীক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী বিভাগ নির্বাচনের স্বাধীনতা থাকলেও জোর করে বিভাগ পরিবর্তন করতে বাধ্য করায় তারা সমস্যার মুখে পড়েছেন।
তবে শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন। তিনি জানান, এমপিওভুক্ত বিদ্যালয় হওয়ায় বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তাই অষ্টম শ্রেণিতে মেধাক্রমে এক থেকে ২০-এর মধ্যে থাকা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল।
প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন আরও দাবি করেন, কাউকে কোনো ধরনের চাপ দেওয়া হয়নি এবং যারা অভিযোগ করেছে তারা বিজ্ঞান বিভাগেরই শিক্ষার্থী। যারা বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দেবে, তাদের বিনা মূল্যে ক্লাস করানো এবং প্রয়োজনীয় পড়াশোনার ব্যয় বহনের প্রস্তাবও বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পটিয়ার ইউএনও ফারহানুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি গণশুনানির মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।