সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ফুটবলের তর্কে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা, মা-মেয়েকে কুপিয়ে জখম

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২১ জুলাই ২০২৬ | ৫:৩৮ অপরাহ্ন

আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল নিয়ে তর্কের জেরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক নারী ও তার মেয়েকে কুপিয়ে জখম করেছে কিশোর গ্যাং।

প্রতিবেশীকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে গেলে তাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়।

হামলায় আহতরা হলেন ময়ুরা খাতুন (৫৫) ও তার মেয়ে রাবিয়া খাতুন (১৫)। ময়ুরা খাতুন বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মওলার পাড়া এলাকার আবুল হাশেমের স্ত্রী।

সোমবার (২০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মওলার পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার মা-মেয়েকে কোপানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, গত রোববার রাতে বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে স্থানীয় যুবক রাকিবুল ইসলাম ওরফে রাকিবের সঙ্গে অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলামের গ্রুপের এক সদস্যের কথাকাটাকাটি হয়।

এর জের ধরে সোমবার সকালে মোরশেদুল ইসলাম ও তার ভাই মোহাম্মদ হাবিবের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল রাকিবের ওপর হামলা চালায়।

ভুক্তভোগী রাকিবুল ইসলাম জানান, ময়ুরা খাতুনের বাড়ির সামনে মোরশেদ ও হাবিব তাকে মারধর করছিলেন। এ সময় ময়ুরা খাতুন এগিয়ে এসে তার বাড়ির সামনে ঝামেলা করতে বারণ করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোরশেদ ও হাবিবসহ তাদের লোকজন ধারালো দা ও কুড়াল নিয়ে ময়ুরা খাতুনের ওপর হামলা চালায়। মাকে বাঁচাতে মেয়ে রাবিয়া খাতুন এগিয়ে এলে তাকেও কোপানো হয়।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।

বর্তমানে তারা চমেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা ময়ুরা খাতুনের মাথায় চারটি এবং রাবিয়া খাতুনের মাথায় সাতটি সেলাই দিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলাম এলাকায় একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন এবং তার বাবা জাকের হোসেনের বিরুদ্ধেও ভূমি দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

আহত ময়ুরা খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, প্রতিবেশীকে বাঁচাতে যাওয়াই তার মা ও বোনের অপরাধ ছিল। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।

এদিকে অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলাম এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করতে ভয় পাচ্ছে। মামলা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হাবিবের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে চায়ের দোকানে তর্কবিতর্কের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, পুলিশ জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যায় এবং ভুক্তভোগীদের লিখিত এজাহার জমা দেওয়ার পরামর্শ দেয়।