সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চকরিয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা: প্রধান আসামি নাজিম রিমান্ডে

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২২ জুলাই ২০২৬ | ৬:০০ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের চকরিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২২ জুলাই) চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত ওই আসামির নাম নাজিম উদ্দীন। তিনি হারবাং ইউনিয়নের উত্তর হারবাং ইছাছড়ি এলাকার আলোচিত বালুদস্যু হিসেবে পরিচিত।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ হোসেন গত ২ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন।

রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজবাহ উদ্দীন।

আদালতে রিমান্ড শুনানিতে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া অ্যাডভোকেট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুল কবির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মঈন উদ্দিনসহ আরও একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

অ্যাডভোকেট মিজবাহ উদ্দীন জানান, রিমান্ড শুনানির জন্য মামলার এক নম্বর আসামি নাজিম উদ্দীনকে বুধবার সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তর হারবাং ইছাছড়ি ছড়াখাল ও পাশের কৃষিজমি কেটে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল নাজিম উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র।

এই পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে যান তিন সাংবাদিক।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক কালেরকণ্ঠ ও আজাদীর প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ, একুশে পত্রিকার প্রতিনিধি এম জিয়াবুল হক এবং দৈনিক আমার দেশ ও পূর্বদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি একেএম ইকবাল ফারুক।

সংবাদ সংগ্রহের সময় নাজিম উদ্দীন তাঁর সহযোগীদের নিয়ে সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।

একপর্যায়ে ছোটন ও জিয়াবুলকে মারতে মারতে ছড়ার পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। হামলায় সাংবাদিক ছোটনের মাথা ফেটে যায় এবং ইকবাল ফারুকের ডান হাতে কোপ দিলে তালু কেটে যায়।

গুরুতর আহত সাংবাদিক জিয়াবুলের ডান হাতের বাহুর হাড় ভেঙে যায়। বর্তমানে তাঁর হাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে পুনরায় অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

এই ঘটনার পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক একেএম ইকবাল ফারুক বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এতে নাজিম উদ্দীনকে এক নম্বর আসামি করে মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

এজাহারে ২ নম্বর আসামি হিসেবে সাহাব উদ্দিন এবং ৩ নম্বর আসামি হিসেবে নুরুল আলমের নাম রয়েছে। এই তিন আসামি হাইকোর্ট থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন।

জামিনের মেয়াদ শেষে তাঁরা কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন।

গত ৩০ জুন জামিন শুনানিতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইরফানুল হক চৌধুরী প্রধান আসামি নাজিমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর দুই আসামিকে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়।