
ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মা-মেয়েসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখমের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে গুরুতর আহত আয়েশা বেগমের ছেলে মো. রাশেদ মিয়া বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম পুঁইছড়ি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মোরশেদ (২৮), মো. ছৈয়দ (২১), মো. রাসেল (২২), মো. রাকিব (১৯), মো. ইসহাক (১৯) ও ওসমান (২২)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই ভোরে আর্জেন্টিনা-স্পেনের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে এলাকার কথিত কিশোর গ্যাংয়ের নেতা মোহাম্মদ মোরশেদের সঙ্গে স্থানীয় তরুণ মোহাম্মদ রাকিবের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
পরে স্থানীয় এক দোকানদার বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও মোহাম্মদ মোরশেদ সেসময় মোহাম্মদ রাকিবকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
এর কিছুক্ষণ পর সকালে মোহাম্মদ রাকিব একটি বাড়িতে কাজ করতে গেলে মোহাম্মদ মোরশেদ তার দলবল নিয়ে দা, লোহার রড ও চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান।
প্রাণ বাঁচাতে মোহাম্মদ রাকিব চিৎকার করলে পাশের বাড়ির আয়েশা বেগম তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন।
এ সময় হামলাকারীরা আয়েশা বেগমের মাথায় দায়ের কোপ দেন এবং তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকাতে গেলে তার হাতেও কোপ লাগে।
মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন আয়েশা বেগমের মেয়ে রাবেয়া বেগম ও প্রতিবেশী মো. আজিম উদ্দিন।
হামলাকারীরা তাদের ওপরও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মামলা বা সালিশের চেষ্টা করলে পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
হামলায় গুরুতর আহত আয়েশা বেগম ও রাবেয়া বেগম বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাদের শরীরে মোট ১১টি সেলাই দিয়েছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার নেতৃত্ব দেওয়া মোহাম্মদ মোরশেদ ওই এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে, যিনি এলাকায় ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত।
বাবার প্রশ্রয়ে মোহাম্মদ মোরশেদ একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলেছেন এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুষকে মারধর ও হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার গ্রুপের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার জানান, মামলাটি রুজু হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।